• হাতির হানা রুখতে বনবস্তিতে ক্যামেরা
    বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: লোকালয়ে হাতির হানা বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুও। ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে বনদপ্তরকে। অথচ হাতির গতিবিধির উপর নিয়মিত নজরদারি চালাতে পারলে এ ঘটনা অনেকটাই রুখে দেওয়া সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত কর্মী। কিন্তু, বনদপ্তরের কাছে সেই কর্মী নেই। বনরক্ষীর বেশিরভাগ পদ ফাঁকা। কাজ চালাতে হচ্ছে বন সহায়ক দিয়ে। এ অবস্থায় হাতির গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে করিডরে বনদপ্তরের ফেন্সিং লাগোয়া এলাকায় এবং বনবস্তির আশপাশে সিসি ক্যামেরা বসাতে চলেছে বনদপ্তর। বিট অফিস থেকে দেখভাল করা হবে ওই ক্যামেরা। রাতেও যাতে অন্ধকারে স্পষ্ট ছবি ওঠে, সেজন্য শক্তিশালী ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লোকালয়ের কাছাকাছি হাতির পাল ঘোরাঘুরি করছে কি না কিংবা কোনও দলছুট হাতির গতিবিধি কী, তা ধরার চেষ্টা করবে ওই ক্যামেরা। ফুটেজ দেখে সেইমতো দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন বনকর্মীরা। 


    এমনিতে জঙ্গলের কোর এলাকায় বনদপ্তরের তরফে ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো রয়েছে। তাতে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ছবি ধরা পড়ে। কিন্তু, জঙ্গল থেকে কোনও বন্যপ্রাণী বনবস্তি এলাকায় বা লোকালয়ে ঢুকে পড়লে তা ওই ক্যামেরায় ধরা পড়ে না। সেজন্যই বনবস্তি এলাকায় ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের চিফ কনজারভেটর অব ফরেস্ট (নর্দান সার্কেল) এস কে মোলে বলেন, ‘আমরা জঙ্গলের ফেন্সিংয়ের কাছাকাছি এলাকায় কিছু ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূলত লোকালয়ে হাতির হানা রুখতে ওই ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। বিট অফিস থেকে ওই ক্যামেরার মনিটরে নজর রাখা হবে। এতে কোন এলাকায় হাতির দল রয়েছে, সেই দলের হাতিদের গতিবিধি কী, সবটাই ক্যামেরায় ফুটেজ দেখে বোঝা যাবে। সেই মতো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’ 


    বনদপ্তর সূত্রে খবর, আপাতত জলপাইগুড়ি, বৈকুণ্ঠপুর ও কোচবিহার ডিভিশনের বনবস্তিতে ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি ও বৈকুণ্ঠপুরে লোকালয়ে হাতি ঢুকে পড়ার সমস্যা বেশি। জলপাইগুড়িতে জঙ্গল ৩১০ বর্গ কিমি, বৈকুণ্ঠপুরে ২২৬ বর্গ কিমি এবং কোচবিহার ডিভিশনে ৮০ বর্গ কিমি জঙ্গল। এই বিশাল জঙ্গল পাহারা দেওয়ার কাজ করেন মূলত বনরক্ষীরা। কিন্তু, তথ্য বলছে, জলপাইগুড়িতে ফরেস্ট গার্ডের পদ ১০৮টি। সেখানে ৭৬টিই ফাঁকা। বৈকুণ্ঠপুরে ফরেস্ট গার্ডের অনুমোদিত পদ ৯৮টি। ফাঁকা রয়েছে ৭৫টি। কোচবিহারে ৪৩টি পদ থাকলেও ফাঁকা ৩৫টি। ফলে হাতেগোনা রক্ষী দিয়ে জঙ্গল পাহারার কাজ চালাতে হচ্ছে। বন সহায়করা থাকলেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না সঙ্কট। ক্যামেরা বসিয়ে সেই কর্মী সঙ্কটই মেটানোর চেষ্টায় বনদপ্তর।
  • Link to this news (বর্তমান)