• রাতে প্যারাবোমা পড়ে আগুন ধরল গাছে, আতঙ্ক ধরমপুরে
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: বাংলাদেশে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই কৃষ্ণগঞ্জের ধরমপুরে রাতে প্রচুর নীল-লাল রঙের আগুন জ্বলে ওঠা ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিল। এই ঘটনার জেরে এলাকার বাসিন্দারা ছুটোছুটি লাগিয়ে দেন। শনিবার মধ্যরাতের এই ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। তারা ঘটনাস্থল থেকে প্যারাবোমার মাটিতে বিঁধে থাকা প্রায় ১০ ইঞ্চির ধাতব দণ্ড, ছড়িয়ে থাকা উপকরণ, পোড়া বারুদ সংগ্রহ করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিএসএফও। তারা মাটির ভিতর থেকে আটকে থাকা উপকরণ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক। এ প্রসঙ্গে ৩২ নম্বর ব্যাটালিয়নের কম্যান্ডার সুজিত কুমার বলেন, এতে চিন্তার কোনও কারণ নেই। এই মুহূর্তে আমরা জঙ্গল বা বিভিন্ন স্থানে অচেনা লোকজন আসছে কিনা দেখছি। সেই কারণে এই প্যারাবোম। এই প্যারাবোম ফাটালে যা আলো হবে তাতে অন্ধকারেও দেখা যাবে। সুজিত কুমার আরও বলেন, এ প্যারাবোম বাতাসের জন্য ঘুরে গিয়ে ওই বাড়িতে পড়েছে। তবে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।


    স্থানীয়, পুলিস ও বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মধ্যরাতে কৃষ্ণগঞ্জের ধরমপুর ঠাকুরবাড়ি এলাকার মাঝবয়সি প্রদীপ বিশ্বাসের বাড়িতে আচমকা বিরাট শব্দ হয়। বাড়ির সকলের ঘুম ভেঙে যায়। বাড়ির কর্তা প্রদীপ বিশ্বাস ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। বেরিয়ে পড়েন বাড়িতে আসা বিবাহিত মেয়ে তনুশ্রী মণ্ডল। বাড়ির সামনে থাকা বেলগাছের পাতায় আগুন ধরে যায়। প্রদীপ বিশ্বাসের বাড়ির লোকজন প্রতিবেশীদের চিৎকার করে ডেকে তাদের বাড়িতে ঢুকে যায়। প্রত্যেকে তখন অজানা এই পরিস্থিতি সামলাতে হুড়োহুড়ি লাগিয়ে দেয়। প্রসঙ্গত প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় সীমান্তের নিরাপত্তা যাতে কোনও ভাবে বিঘ্নিত না হয় তার জন্য বিএসএফ ব্যাপক ভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। টহলদারি বাড়ানো, জওয়ান বাড়ানো, ব্যারিকেড গড়ে তোলা, তল্লাশি সহ একাধিক ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করা হচ্ছে, বাইরে থেকে লোক বা অচেনা কেউ এলে বিএসএফকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অশান্ত পরিস্থিতিতে জঙ্গি কার্যকলাপ সহ বেশকিছু ঘটনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বাংলাদেশের জেলে থাকা জঙ্গিরা বেরিয়ে পড়েছে। মায়ানমার থেকে বাংলাদেশ হয়ে এপারের সীমান্ত পথ দিয়ে রোহিঙ্গা, জেএমবি সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা অনুপ্রবেশ করতে পারে। এই অবস্থায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উদ্বেগ রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় প্রায় ২৪ কিমি অরক্ষিত। এরই মধ্যে ধরমপুরের প্যারাবোমের ঘটনায় সীমান্তে আতঙ্কের সঙ্গে চাপা উত্তেজনাও রয়ে গিয়েছে। 


    এ নিয়ে ওই বাড়ির কর্তা প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। প্রচণ্ড  শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ঘরে সামনে লাল, নীল, আলো ছড়িয়ে আগুন জ্বলছে। বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে গিয়েছিল। অচৈতন্য ভাব হচ্ছিল। বারুদে গা জ্বালাপোড়া করছিল। ঘরের সামনে দেখি নীল আলোর আগুন। লোকজনকে ডাকাডাকি করা হয়। পুলিস, বিএসএফ আসে। আমি আতঙ্কিত। এখানে থাকব কিনা ভাবছি। বিস্ফোরক বলে মনে হচ্ছে। বাড়ির বেলগাছের পাতা পুড়ে গিয়েছে। মিনিট পাঁচেক ধরে এই আগুন জ্বলে। 
  • Link to this news (বর্তমান)