শুক্রবার ম্যানেজ করতে পারলেই চার দিন ছুটি, পর্যটকের ঢল নামবে দীঘায়
বর্তমান | ১৪ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, কাঁথি: একটা দিন ছুটি ম্যানেজ করতে পারলেই চারদিনের লম্বা উইকএন্ড। ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটি, পরদিন শুক্রবার অফিস খোলা, তারপর শনি ও রবি ফের দু’ দিন ছুটি। ওই শুক্রবারটাই ছুটি ম্যানেজ করতে সচেষ্ট সবাই। সম্ভবত রেলও জানে ব্যাপারটা। তাই পর্যটকদের সুবিধার্থে দক্ষিণ-পূর্ব রেল স্বাধীনতা দিবসে দীঘার উদ্দেশে বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা করেছে। সব মিলিয়ে চারদিন সৈকতশহর দীঘায় পর্যটকেদের বিপুল ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা। এমনিতেই ফি বছর স্বাধীনতা দিবসে পর্যটকের ঢল নামে দীঘায়। তবে এবার লম্বা উইকএন্ডে ব্যাপক ভিড় হবে বলে মনে করছেন হোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকলেই। আর পর্যটকদের ভিড় মানেই তাঁদের লক্ষ্মীলাভ।
রেল দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসে সকাল ৮টায় শালিমার থেকে দীঘার উদ্দেশে যাত্রা করবে একটি বিশেষ ট্রেন। সেটি দীঘায় পৌঁছবে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে। ফের ওইদিন দুপুর ১টায় দীঘা ছেড়ে শালিমারে ফিরবে বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে।
উল্লেখ্য, সমুদ্রতীর থেকে রাস্তাঘাট, মোহময়ী রূপে সেজে উঠেছে দীঘা। সৌন্দর্যায়ন এবং পর্যটকদের সুষ্ঠু যাতায়াতের স্বার্থে দীঘায় যেখানে জবরদখল করে দোকানপাট বসেছে কিংবা অবৈধ নির্মাণ হয়েছে, তা সরানোর উদ্যোগ প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে। তার উপর দীঘার অন্যতম আকর্ষণ মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প জগন্নাথধামের কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রতিদিনই জগন্নাথধাম দর্শনে মানুষের ঢল নামছে দীঘায়। পর্যটকরা একবার হলেও নির্মীয়মাণ মন্দির দর্শন করে যাচ্ছেন।
তাছাড়া বর্ষায় দীঘা সহ আশপাশের পরিবেশ আরও সুন্দর লাগে। পর্যটকদের একটি বড় অংশ এই সময় দীঘায় বেড়াতে পছন্দ করেন। আর সঙ্গে তিন বা চারদিনের ছুটি পেলে তো একেবারে ‘সোনায় সোহাগা’। সেই ছুটির স্বাদ নিতে ভ্রমণপ্রিয় বাঙালি দীঘার পথে পাড়ি দেন। এবারও তার অন্যথা হবে না। দীঘা-শৌলা মেরিন ড্রাইভ ও তিনটি সেতুর মাধ্যমে দীঘার সঙ্গে একসূত্রে বাঁধা পড়েছে শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে মেরিন ড্রাইভ ধরে লং ড্রাইভে যাওয়ার পথে সমুদ্রের শোভা দর্শনের আনন্দই আলাদা। সঙ্গে রয়েছে সমুদ্রের জলে গা ভিজিয়ে মনকে শীতল করার সুযোগ। এর ফলে স্বাধীনতা দিবসে দীঘার পাশাপাশি এই পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও একইভাবে ভিড় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, ১২ আগস্ট পর্যন্ত কমবেশি বুকিং হয়েছে। তবে টানা ছুটি থাকায় ১৫ তারিখ থেকেই ভিড় হবে এবং বুকিংয়ের হার ভালোই হবে বলে আমরা মনে করছি। তবে গত দু’-আড়াই মাসে দীঘা সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে সমুদ্রস্নানে নেমে বেশ কয়েকজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এটা বন্ধ করতেই হবে। এক্ষেত্রে পুলিসি নজরদারি বাড়ানো দাবি জানাচ্ছি। দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক তথা কাঁথির মহকুমা শাসক সৌভিক ভট্টাচার্য বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশাসন সর্বদা তৎপর। বেড়াতে আসা পর্যটকদের প্রশাসন নির্দেশিত নিয়মগুলি মেনে চলতে হবে।
ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) আবু নুর হোসেন বলেন, অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে সবদিক দিয়ে প্রস্তুত পুলিস-প্রশাসন। দীঘা সহ চারটি পর্যটন কেন্দ্রে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে পর্যাপ্ত পুলিস মোতায়েন করা হচ্ছে। স্নানঘাটগুলিতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া মেরিন ড্রাইভে যাতে বেপরোয়া গতিতে বাইক সহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল না করে, তার জন্যও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ বা খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।