না শোধরালে অবনমন ঠেকানো অসম্ভব, মত প্রাক্তনী ও আশ্রমিকদের, তিরে বিদ্ধ বিদ্যুৎ
বর্তমান | ১৪ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, বোলপুর: সোমবার প্রকাশিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্কের (এনআইআরএফ) বিচারে গুরুদেবের ঐতিহ্যবাহী বিশ্বভারতী স্থান পেয়েছে ১৫০ নম্বরে। এমন অধঃপতনে প্রাক্তনী ও আশ্রমিকদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবস্থান তলানিতে এসে ঠেকে। তাঁর জন্যই বিশ্বভারতী ২০ বছর পিছিয়ে গিয়েছে বলে অভিমত প্রাক্তনী ও আশ্রমিকদের। যেসব কারণে অবনমন হয়েছে সেই ফাঁকফোকরগুলি বোজাতে না পারলে পরবর্তীতে র্যাঙ্কিং বাড়বে না বিশ্বভারতীর। তাই বিপর্যয় এড়াতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনার সময় এসেছে এমনটাই মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন ভিবিউফা সদস্যরা।
র্যাঙ্ককিংয়ের বেশ কিছু প্যারামিটার প্রকাশ করেছে এনআইআরএফ কর্তৃপক্ষ। সেখানে কোন কোন বিষয়ে বিশ্বভারতীর অবনমন হয়েছে তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাতের স্কোর ছিল ১৬.৫১। এবছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.৫৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সম্পদ ও তার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের স্কোর ছিল ৯.৪। এবছর তা কমে ন’য়ে ঠেকেছে। অধ্যাপনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রজেক্ট অ্যান্ড প্রফেশনাল প্র্যাকটিস বিষয়ে ২০২১ সালে বিশ্বভারতীর প্রাপ্তি ছিল ১.২৫। এবছর তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৬। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী অনেক ক্ষেত্রেই তুঘলকি আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ। যেমন, সুইজারল্যান্ডের সার্ন প্রকল্পে বিশ্বভারতীর অধ্যাপক মানস মাইতিকে যোগদানে বাধা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্পে যোগদান করার ক্ষেত্রে ইচ্ছামতো নিয়ম-কানুন তৈরি করার ফলে অধ্যাপকদের যোগদানে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এর পাশাপাশি, গত দু’ বছরে সরকারি হিসেবে কোনও অধ্যাপকের নামে উল্লেখযোগ্য পেটেন্ট নেই। মূলত, বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্থিক খরচ বহন করতে হয়। কিন্তু তা হয়নি বলে অধ্যাপকরা তা নিজেদের নামে করেছেন। এর জন্যই আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বভারতীর উৎকর্ষ হ্রাস পেয়েছে। তাই অধ্যাপক সংগঠনের অভিমত, যেসব জায়গায় খামতি রয়েছে, সেগুলি যোগ্য লোকদের দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। না হলে পরবর্তীতে অবনমন ঠেকানো যাবে না। প্রাক্তন উপাচার্যকে একহাতে নিয়েছেন প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বভারতীকে শেষ করে দিলেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় আরও ২০ বছর পিছিয়ে গেল। ফাইল চিত্র