এই সময়: ওয়েদার সিস্টেমে দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাবে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গে। শুক্রবার আলিপুর হাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছিল। শুক্রবার ওই ঘূর্ণাবর্তই শক্তি বাড়িয়ে পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে। তারই প্রভাবে আজ, শনিবার থেকে টানা তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে কলকাতাতেও। এ বছর মে-তে ঘূর্ণিঝড় ‘রিমেল’-এর ল্যান্ডফলের সময়ে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় দক্ষিণবঙ্গের যে জায়গাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল কলকাতাও। যদিও তখনও বাংলায় নিয়ম-মাফিক বর্ষাকাল শুরু হয়নি।জুন থেকে সেপ্টেম্বর—বর্ষার এই চার মাসের মধ্যে অগস্টের মাঝামাঝি পার হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ‘ভারী’ বৃষ্টির দেখা মেলেনি। আবহবিজ্ঞানের ভাষায় ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি না হলে তাকে ‘ভারী’ বলা হয় না। বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পর শহরে সেই ভারী বৃষ্টির আশাই দেখছেন আবহবিদরা।
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আজ, শনিবার থেকে টানা তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই তিন দিন কলকাতায় হলুদ সতর্কতা জারি থাকছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গেও। শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে। বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি জলপাইগুড়ি, মালদহে। বৃষ্টি হবে দুই দিনাজপুরেও।
হাওয়া অফিসের মতে, বাংলাদেশের দক্ষিণভাগ এবং সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপরে তৈরি ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর উত্তর বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বাংলাদেশ ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে সরতে শুরু করেছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এই নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হবে। তবে এর পরেই সেটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ পার করে ক্রমে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে যাবে। এই কারণে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড এবং বিহারেও প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা।