• মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল রঞ্জিতের
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: সদ্য মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন। তড়িঘড়ি বাড়ি ফেরার জন্য রাজস্থান থেকে বিকানির এক্সপ্রেস (Bikaner Express) ধরেছিলেন রঞ্জিত বর্মন। আর তাতেই ঘটল বিপত্তি। আর বাড়ি ফেরা হল না তাঁর। লাইনচ্যুত গুয়াহাটি-বিকানির এক্সপ্রেসের (Guwahati-Bikaner Train Accident) মৃতদের তালিকায় কোচবিহারের রঞ্জিতও একজন।

    জানা গিয়েছে, রেলের S5 কামরাটিতে ছিলেন রঞ্জিত। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কিত ছিল তাঁর পরিবার। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা ট্রেন খুঁজেও রঞ্জিতকে প্রথমে খুঁজে পাননি পরিবারের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়ে খোঁজাখোঁজি করেন তাঁর দাদা প্রদীপ বর্মন। অবশেষে মর্গে তাঁর সন্ধান মেলে। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে তাঁর দেহ।

    অন্যদিকে, কাজের সন্ধানে মাত্র তিন মাস আগেই জয়পুরে গিয়েছিলেন কোচবিহারের (Coach Beher) বাসিন্দা সুভাষ রায়। অর্থ উপার্জন করে জয়পুর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। দু'মাস আগেই ভূমিষ্ঠ হয়েছে তাঁর কন্যাসন্তান। মেয়েকে প্রথম চোখের দেখা দেখবার উচ্ছ্বাস ছিল চোখেমুখে। কিন্তু, কাল হল রেল সফর। গুয়াহাটি-বিকানির এক্সপ্রেস (Guwahati-Bikaner Express) প্রাণ কাড়ল বেসরকারি কোম্পানির কর্মী সুভাষের। বাবা হওয়ার আনন্দটুকু উপভোগ করাই হল না তাঁর। মাত্র দু'মাসেই পিতৃহারা হল সুভাষের কন্যাসন্তান। কান্নার রোল উঠেছে কোচবিহার-১ ব্লকের ফলিমারি গ্রামে। ৩২ বছরের একমাত্র রোজগেরে সুভাষের মৃত্যুতে শোকে পাথর গোটা রায় পরিবার।

    এদিকে, উত্তরবঙ্গের বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকেই খোঁজ নেই আসানসোলের যুবক অজিত প্রসাদের (৩৩)। রেলকর্মী অজিত ওই ট্রেনেই ভ্রমণ করেছিলেন বলে তাঁর পরিবার এবং প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর ফোন স্যুইচড অফ। রেলের তরফে এখনও অজিতের সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তবে মৃতদের মধ্যে জনৈক রেলকর্মীর দেহ থাকতে পারে বলে খবর মিলেছে। ফলে চরম উদ্বেগে অজিতের পরিবার থেকে বন্ধু-প্রতিবেশীরা। সকলের একটাই প্রার্থনা, ‘ভগবান করুক, যেন কিছু না হয়।’ পাশাপাশি, শুক্রবার সকালে রেলের তরফে একটি খবর আসে, ময়নাগুড়ি হাসপাতালে একটি মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই মৃতদেহটি জনৈক রেলকর্মীর। তাঁর বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর। এই খবর আসার পরেই সমগ্র রাধানগর তালপুকুরিয়া এলাকায় দুশ্চিন্তার ছায়া পড়েছে। নিজেকে সামলাতে পারছেন না অজিতের স্ত্রী। খাওয়া-দাওয়া ছেড়েছেন তিনি। অজিতের বন্ধু শম্ভু প্রসাদ বলেন, ‘মাত্র এক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল অজিত প্রসাদের। এখন অজিত কী অবস্থায় রয়েছে তা ভেবে আমরা সকলে আতঙ্কিত।’
  • Link to this news (এই সময়)