• স্থানীয়দের নিয়েই উদ্ধারকাজে ঝাঁপ টিম জলপাইগুড়ি প্রশাসনের
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ১০ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন উদ্ধারকাজ। ট্রেন দুর্ঘটনা হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুল্যান্স, ডাক্তার, দমকল, উদ্ধারকারী দল হাজির করে ফেলেছিলেন জেলাপ্রশাসন। ঘটনাস্থল থেকে জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা ও পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত সব কিছুই ঠান্ডা মাথায় ম্যানেজমেন্টের কাজ চালিয়ে গেলেন। পাশে এগিয়ে এল জলপাইগুড়ির বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সহ স্থানীয় মানুষজন। রাত ৩টে পর্যন্ত চলল উদ্ধারকাজ। সবমিলিয়ে, জলপাইগুড়িতে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় জেলা প্রশাসনের টিম ওয়ার্ককে কুর্নিশ না জানিয়ে পারা যায় না। এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে উত্তরববঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান রবি ঘোষ।

    ময়নাগুড়ি দোমহনিতে ট্রেন দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসেছিলেন ময়নাগুড়ির আপামর জনসাধারণ। বলা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে রেল থেকে জেলা প্রশাসনকে খবর দেন। তারপর সেই বিকেল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে গিয়েছেন আবুয়াম, দোমহনি মোড় সহ দাড়িভিজা এলাকার মানুষজন। তাই প্রশাসনও বলছে, আবুয়াম, দোমহনি মোড় সহ দাড়িভিজা এলাকার মানুষজন যেভাবে উদ্ধারকাজে সাহায্য করেছে তা প্রশংসার দাবি রাখে।

    দমকল ও উদ্ধারকারী দল একদিকে যেমন গ্যাস কাটার দিয়ে ট্রেনের বগিগুলি কাটার পর একের পর এক আহত যাত্রীকে বের করছিল, তেমনই জেলা প্রশাসনের তরফে একেবারে গ্রিন করিডর করে তড়িঘড়ি আহত যাত্রীদের ময়নাগুড়ি ও জলপাইগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য জলপাইগুড়ি সহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও ছুটে আসে অ্যাম্বুল্যান্স। এদিন ভোর ৩টে পর্যন্ত চলে উদ্ধারকাজ। সবমিলিয়ে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ১০ ঘণ্টাতেই সম্পন্ন হয় উদ্ধারকাজ।

    এদিন সকালে উদ্ধারকারী দলের তরফে জানানো হয়, ট্রেনের ভিতরে আর কেউ নেই। এরপরেই রেললাইন থেকে ট্রেন সরানোর কাজ শুরু হয়। রাতেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে ট্রেন যাত্রীদের উদ্ধার করে ময়নাগুড়ি BEd কলেজে রাখার ব্যবস্থা করেছিল জেলা প্রশাসন। রেল, পুলিশ সহ তৃণমূল, রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ সহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি তাঁদের কাছে খাবার পৌঁছে দেন। এই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, তা প্রশংসনীয়।

    এদিন রাজস্থানের চারজন মন্ত্রী যেমন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন, তেমনই আসেন উত্তরববঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান রবি ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, রেল দফতর উত্তর-পূর্ব ভারতে পুরোনো কোচ দেয়। আরও ভালো কোচ দক্ষিণ ভারতে দেয়। এই দুর্ঘটনার তদন্তের রিপোর্ট ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ করারও দাবি রাখেন তিনি।
  • Link to this news (এই সময়)