• বিপিন রাওয়াতের কপ্টার দুর্ঘটনার আসল কারণ সামনে আনল সেনা
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: CDS Bipin Rawat-এর কপ্টার দুর্ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ওড়াল সেনা। তিন বাহিনীর উদ্যোগে তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা পড়ল এদিন। কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা নয় বা অন্তর্ঘাত নয়, আচমকা আবহাওয়া পরিবর্তনে কপ্টারের মধ্যে মেঘ ঢুকে যাওয়াতেই বিপত্তি। দিশেহারা হয়ে পড়েন এমআই-১৭ভি৫ হেলিকপ্টারের দুই পাইলট। কপ্টার ধাক্কা খায় পাহাড়ে। পাইলটের বিভ্রান্তি তথা 'স্প্যাটিয়াল ডিসওরিয়েন্টেশন' এর জন্যই এই দুর্ঘটনা বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে সেনা। গত ৮ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর কুন্নুরে ওই দুর্ঘটনায় CDS জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তাঁর স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াত এবং সেনার ১৩ জন আধিকারিক প্রাণ হারান৷

    উল্লেখ্য,সুলুর এয়ারবেস থেকে ডিফেন্স সার্ভিস স্টাফ কলেজ, ওয়েলিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সস্ত্রীয় সিডিএস রাওয়াত। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে দেশের অন্যতম সেরা হেলিকপ্টার পাইলট এয়ার মার্শাল মানবেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে সেনাবাহিনীর তিন শাখা ৷ ব্ল্যাক বক্স-সহ যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রথমে মনে করেছিলেন, সম্ভবত কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণেই চপারটির পাইলটরা দিকভ্রষ্ট হন এবং ল্যান্ডিংয়ের মাত্র সাত মিনিট আগে চপারটি ভেঙে পড়ে কুন্নুরের জঙ্গলে৷ যান্ত্রিক গোলযোগ বা পাইলটের ভুল না-থাকা সত্ত্বেও কোনও আকাশযান যখন মাটি, পাহাড়, জল বা অন্য কিছুর সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা খায়, তখন ওই ধরনের দুর্ঘটনাকে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (IATA) পরিভাষায় বলা হয়- কন্ট্রোলড ফ্লাইট ইনটু টেরেইন (CFIT)। এখানে 'কন্ট্রোলড' কথাটার অর্থ- আকাশযানের উপর বজায় রয়েছে পাইলটের নিয়ন্ত্রণ, তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের কপ্টার নিয়ন্ত্রিত থাকলেও ওই উপত্যকা. আবহাওয়াগত কিছু পরিবর্তনের কারণে মেঘ পাইলটের দৃষ্টিপথে বাধা তৈরি করে। 'কোর্ট অফ এনকোয়ারি'-তে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে এই তত্ত্বকেই পেশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিবৃতিতে যাবতীয় অন্তর্ঘাত ও উদাসীনতার তত্ত্বকে খারিজ করে দিয়েছে।

    দেশের অন্যতম সেরা হেলিকপ্টার পাইলট এয়ার মার্শাল মানবেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে এই তদন্ত। নীলগিরি পাহাড়ের কোলে কুন্নুরের জঙ্গলের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখার পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা৷ দুর্ঘটনাগ্রস্ত চপারের উদ্ধার হওয়া ব্ল্যাকবক্সটিও (ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার) খতিয়ে দেখেন তাঁরা। সুলুর এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। যাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছিলেন হেলিকপ্টারটির পাইলট৷ এই দুর্ঘটনায় সস্ত্রীক জেনারেল রাওয়াত সহ ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা দেশে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দেয় কেন্দ্র।

    দেশের আরও খবরের জন্য ক্লিক করুন। প্রতি মুহূর্তে খবরের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন এই সময় ডিজিটালে।
  • Link to this news (এই সময়)