• কাটোয়ায় সংক্রান্তিতে পিঠের হোম ডেলিভারি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: পৌষ সংক্রান্তিতে একটি ফোন করলেই বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে গরমাগরম নানা স্বাদের পিঠে। কাটোয়া শহরে এবার পিঠের হোম ডেলিভারি করছেন পুরসভার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। ঝাল, ভাজা, পুলি থেকে শিং পিঠে বা সেদ্ধ পিঠে সবই পৌঁছে যাচ্ছে বাড়িতে। জেলা সবলা মেলায় পিঠে বিক্রিতে বিপুল সাড়া পাওয়ার পর কাটোয়া শহরের মহিলারা হোম ডেলিভারির উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রথমদিনে ভালো সাড়াও মিলেছে বলে গোষ্ঠীর মহিলাদের দাবি।

    এবিষয়ে কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করে দিয়েছেন। কাটোয়া পুরসভার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা সবলা মেলায় পিঠে তৈরি করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। তাই তাঁরা এবার বাড়িতে ঘুরে ঘুরে পিঠের হোম ডেলিভারি করছেন। তাতে তাঁরা উপার্জন করছেন। এটা তো ভালো দিক।

    পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠেপুলি হয় না এমন বাঙালি হেঁশেল কমই আছে। কিন্তু জিভে জল আনা পুরনো দিনের সেই সব পিঠের নানা রেসিপি আজ হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের মানুষের পিঠে তৈরির রেওয়াজ একেবারেই কম। তাই এবার কাটোয়া শহরের মাধাইতলা এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বাড়িতে বসে নানা স্বাদের পিঠে তৈরি করে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা করছেন। এমনকী পুরনো দিনের হারিয়ে যাওয়া সেইসব পিঠের নানা রেসিপি দিয়ে নতুন নতুন ধাঁচের পিঠে তৈরি করছেন। পৌষ সংক্রান্তির দিন কাটোয়া শহরের বাসিন্দারা বাড়িতে বসেই খেজুর গুড় দিয়ে সেইসব পিঠের স্বাদ নেন।

    জানা গিয়েছে, ঝাল ভাজা পুলি ১০ টাকা প্রতি পিস, শিং পিঠে ১০ টাকা, সেদ্ধ পিঠে ১০ টাকা, মালপোয়া ১৫ টাকা, চুষি পিঠে এক বাটি ২০ টাকা, দুধ পুলি একবাটি ২০ টাকা, দুধ সরপিঠে দু’পিস ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

    স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা সুজাতা দাস, সোমা দেবনাথ, টুসি দাস বলেন, আমরা প্রথমে কাটোয়ায় জেলা সবলা মেলায় পিঠের স্টল দিয়েছিলাম। সেখানে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। কাটোয়ার বাসিন্দারা পিঠে খুব পছন্দ করেন। সাতদিনে প্রায় ৮০ হাজার টাকার বেশি পিঠে বিক্রি হয়েছে। তাই তখন থেকেই ঠিক করি পিঠের হোম ডেলিভারি করব। এবারই প্রথম বাড়িতে বসে পিঠে তৈরি করে হোম ডেলিভারি করছি। আমাদের ফোন করলেই বাড়িতে পিঠে পৌঁছে দিয়ে আসব। তাতে আমাদের কিছু আয় হবে। 

    আরও কয়েকজন সদস্য শিবানি দেবনাথ, ইতি হালদার বলেন, আগেরদিনে বাড়িতে ঠাকুমারা অনেক জিভে জল নানা পিঠে তৈরি করতেন। এখন সেসব হারিয়ে গিয়েছে। আমরাও পুরনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে পুরনো ও নতুনের মিশেলে পিঠে তৈরি করছি। যেমন ঝাল ভাজা পুলি পিঠেতে লঙ্কা ও ক্ষীর দুটোরই স্বাদ রয়েছে। পাশাপাশি শিংপিঠেও পুরনো আমলে করা হতো। এখন সেসব হারিয়ে গিয়েছে। এখন বাড়িতে অনেকে পিঠে তৈরির ঝক্কি নেন না। তাই অল্প টাকায় রেডিমেড পিঠে পেতে চাইছেন। আমরাও তাঁদের চাহিদা মতো পিঠের হোম ডেলিভারি করছি।
  • Link to this news (বর্তমান)