নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে রবিবার জলপাইগুড়িতে আছড়ে পড়ল আন্দোলনের ঢেউ। দুপুর থেকে একের পর এক মিছিল আটকাতে কার্যত হিমশিম খেতে হল পুলিসকে। দুপুরে রং-তুলি হাতে রাস্তায় নামেন শহরের চিত্র শিল্পীরা। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আর্ট গ্যালারিতে চলা সঙ্গীতানুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে ছবি এঁকে প্রতিবাদ জানাতে চান তাঁরা। কিন্তু, পুলিস আর্ট গ্যালারির সামনে থেকে সরিয়ে দেয় তাঁদের। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিল্পীরা। শহরের পিডব্লুডি মোড়ে ক্যানভাসে ছবি এঁকে আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।
এরপরই বিকেল ৪টেয় জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল থেকে শিল্পী, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের একটি মিছিল শুরু হয়। আর্ট গ্যালারির দিকে মিছিল এগতেই বিশাল বাহিনী নিয়ে তৈরি হয় পুলিস। ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয় রাস্তা। আন্দোলনকারীরা পুলিসের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। রাস্তায় বসে পড়েন মিছিলে শামিল পুরুষ-মহিলারা। দীর্ঘক্ষণ ধরে আন্দোলন চলে। এদিকে, মিছিল আটকাতে পুলিস রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। বিকেল সাড়ে ৫টায় আর্ট গ্যালারিতে সঙ্গীতানুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও দর্শক আসন ছিল ফাঁকা। পরে কিছু দর্শক নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়।
আর জি করে নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে এদিন একসঙ্গে মিছিল করেন ইস্ট বেঙ্গল ও মোহন বাগান ফ্যান ক্লাবের সমর্থকরা। সন্ধ্যার পর মিছিল করেন মহিলারা। পথে নামে ছাত্র-ছাত্রীরাও। রাতে শঙ্খ বাজিয়ে ও উলুধ্বনি দিয়ে মিছিলে শামিল হন বহু মহিলা। তাঁদের স্লোগান ছিল, ‘সুরক্ষায় শঙ্খনাদ’।
চিত্রশিল্পী কৌশিক ঘোষ, সুশান্ত ধর, রিমা আলম বলেন, আর জি করের ঘটনায় আমাদের কারও মন ভালো নেই। ছবি এঁকে আমরা ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছি। জলপাইগুড়িতে শিল্প সংস্কৃতির পীঠস্থান আর্ট গ্যালারি। সেকারণে আমরা চেয়েছিলাম আর্ট গ্যালারির সামনেই আমরা ছবি আঁকব। কিন্তু, সেখানে যাওয়া মাত্র পুলিস আমাদের হটিয়ে দেয়। এভাবে শিল্পীদের রং-তুলিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
‘জলসা নয়, বিচার চাই’ স্লোগানে শনিবার আর্ট গ্যালারির সামনে গলায় পোস্টার ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানান চিকিৎসক, বিজ্ঞানী সহ শহরের আট বিশিষ্ট জন। পুলিস তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রায় দু’ঘণ্টা পর ছাড়া হয় তাঁদের। এরই প্রতিবাদে রবিবার গর্জে ওঠে শহরের শিল্পী, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। আর্ট গ্যালারির অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে তাঁরা মিছিল করেন। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক স্বরূপ বিশ্বাস অবশ্য বলেন, দর্শক কম ছিল। কিন্তু, আমরা সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠান শুরু করি। এদিন যেসব শিল্পীর আসার কথা ছিল, তাঁরা এসেছেন।