• জঙ্গলমহল উৎসব করা নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় সিদ্ধান্ত নিতে ঝাড়গ্রামের ডিএমকে নির্দেশ
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা জঙ্গলমহল উৎসব কোভিড পরিস্থিতিতে স্থগিত রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ঝাড়গ্রামের জেলাশাসককে শুক্রবার ২৪ ঘন্টা সময় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁর এলাকার যে কোভিড পরিস্থিতির জন্য তিনি সরকারি অফিস থেকে স্কুল, কলেজ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতি এমনকী লোক চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, তা মাথায় রেখেই তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ।   

    অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অ্যাট ঝাড়গ্রামের জেলা সচিব তথা সমাজকর্মী প্রতীক মৈত্র আদালতকে জানান, এই উৎসবে প্রতিবারেই প্রচুর ভিড় হয়। সাধারণ মানুষকে মেলায় আসার জন্য জেলাশাসক নিজেই উৎসাহ দিয়ে থাকেন। 

    শুধু ঝাড়গ্রাম নয়, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া থেকেও মেলায় লোক আসেন। অথচ, কোভিড পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব বন্ধ হয়েছে। স্কুল, কলেজের দরজা এখনও বন্ধ। এই অবস্থায় এই জেলার সংক্রমণ পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণেই নানা বিধিনিষেধ ঘোষিত হয়েছে। এমতাবস্থায় মেলা হওয়া অনুচিত। বিশেষত যেখানে এই মেলার কোনও ঐতিহ্যই নেই। কোনও তিথি অনুসরণেও এই মেলা হয় না।

    জবাবে সরকারি আ‌ইনজীবী জানান, বিগত আট বছর ধরে এই মেলা হচ্ছে। এবার কোনও এক জায়গায় না করে ঝাড়গ্রাম সহ পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার সময় কোভিড বিধি পালন করার জন্য বিশেষ কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখে বেঞ্চ বলেছে, কোনও বিশেষ তারিখ বা মাস বা তিথির সঙ্গে এই মেলার কোনও সম্পর্কই নেই। অন্যদিকে রাজ্যের কোভিড সংক্রমণ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত হারে সংক্রমণ বাড়ছে।

    মামলাকারী এও জানান, ৬ জানুয়ারি ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক বিজ্ঞপ্তি জারি করে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস ৮, ১০, ১২ ও ১৪ জানুয়ারি সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত  বন্ধ রাখতে বলেছিলেন। ওই দিনগুলিতে জরুরি প্রয়োজনের খাতিরে সরকারি অফিসগুলিতে ন্যূনতম কর্মী থাকতে পারবেন বলে জানানো হয়েছিল। আরও এক বিজ্ঞপ্তিতে ১০ জানুয়ারি ঝাড়গ্রাম পুর এলাকার সব বাজার, দোকান  ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। ছাড় দেওয়া হয় কেবল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষেত্রে। এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বেঞ্চ বলেছে, এতেই স্পষ্ট যে, ঝাড়গ্রামের কোভিড পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। যদি এই অবস্থাই বজায় থাকে, তাহলে ১৭ জানুয়ারি মেলার আয়োজনকে কোনওভাবেই জনস্বার্থের অনুকূল বলা যায় না। 
  • Link to this news (বর্তমান)