•   পূর্ব মেদিনীপুরে করোনার ধাক্কায় পিছিয়ে যাচ্ছে বিয়ে, ক্ষতির মুখে বহু পরিবার
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পৌষ সংক্রান্তির পরই সাধারণত বিয়ের মরশুম শুরু হয়। কিন্তু করোনার বাড়বাড়ন্তে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রচুর বিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গতি, নাইট কার্ফু, বিয়ের অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ আমন্ত্রিতের সংখ্যা ৫০ করা হয়েছে। এই সমস্ত নানা জটিলতার কারণে দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পরও বিয়ে পিছিয়ে দিচ্ছেন পাত্র-পাত্রী পক্ষ। এর ফলে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছে বহু পরিবার। বুকিং করার পরও অনুষ্ঠানবাড়ি, ডেকোরেটর, ক্যামেরা, বেড়াতে যাওয়ার টিকিট প্রভৃতি বাতিল করতে হচ্ছে। রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদনকারীরাও বিয়ের অনুষ্ঠান পিছনোর জন্য বিডিও অফিস এবং এসডিও অফিসে ফের আবেদন জমা করছেন।

    মহিষাদলে স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ স্মৃতি ভবনের কেয়ারটেকার স্বপন ভুঁইঞা বলেন, মহিষাদলের শীতলপুর গ্রামের এক যুবতীর ৮ফেব্রুয়ারি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সেজন্য হল বুক করা হয়েছিল। কিন্তু, করোনা পরিস্থিতির জন্য বাতিল হয়েছে। জানুয়ারি মাসে ২৪ তারিখ একটি বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে। পাত্রপক্ষ কলকাতা থেকে আসবেন। নাইটকার্ফুর জন্য রাত ১০ টার পর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই এই অনুষ্ঠান বাড়িতে ৩০ জন সারা রাত থাকবেন। একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠান হবে।

    হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়কের ধারে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে আস্তাড়া মৌজায় একটি গেস্ট হাউসের ম্যানেজার সুরজিৎ মাইতি বলেন, জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত আমাদের গেস্ট হাউসে ন’টি বিয়ের বুকিং করোনার জন্য বাতিল হয়েছে। এতে অনেক টাকা লোকসান হচ্ছে। পাঁশকুড়া থানার বাংলা মোড়ের একটি গেস্ট হাউসের কর্ণধার সুব্রত মাইতি বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানে সর্বাধিক ৫০জনের উপস্থিতি নিয়ে কড়াকড়ি হওয়াতেই অনেক বিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে এখনও পর্যন্ত আমাদের এরকম পাঁচটি বিয়ের বুকিং বাতিল হয়েছে।  

    রূপশ্রী প্রকল্পের জেলার অফিসার ইনচার্জ অঞ্জন চৌধুরী বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ক্ষেত্রে বিডিও অফিস এবং পুরসভা এলাকার ক্ষেত্রে এসডিও অফিসে রূপশ্রীর আবেদন জমা পড়ে। বেশকিছু বিয়ের তারিখ পিছচ্ছে। পুনরায় সেই আবেদন বিডিও অফিস এবং এসডিও অফিসেই জমা পড়ছে। সারাবাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নারায়ণ নায়েক বলেন, পৌষ মাস শেষ হওয়ার পর থেকেই বিয়ের ধুম পড়ে যায়। কিন্তু, এবার করোনার বাড়বাড়ন্তে বিয়ের বাজার বেশ ঝিমিয়েছে। ফুল বাজারেও তার প্রভাব পড়বে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৫৭০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫২৯৫। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে সংক্রমণ বাড়ছে। হলদিয়ার সিপিটি টাউনশিপে একসঙ্গে ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

    তমলুক ব্লকের অনন্তপুর গ্রামীণ হাসপাতালে র‌্যাপিড টেস্টে ২০ জনের রিপোর্ট পজিটিভ। একইভাবে কোলাঘাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় র‌্যাপিড টেস্টে মোট ১৩০ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। 

    এছাড়াও তমলুক জেলা হাসপাতালে আরটিপিসিআর টেস্টে ২২৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ। বাকিরা বেসরকারি ল্যাবে আরটিপিসিআর টেস্ট করিয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)