• সংবাদপত্র, ফাইল, টাকা থেকে করোনা ছড়াচ্ছে না: এইমস
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘ওমিক্রন’ ভ্যারিয়েন্ট যত সংক্রামকই হোক না কেন, খবরের কাগজ, কারেন্সি নোট বা ফাইলপত্র স্যানিটাইজ করার প্রয়োজনই নেই। কারণ, ওগুলি করোনা ভাইরাসের মাধ্যম নয়। নেতিবাচক প্রচারে আতঙ্কিত বহু মানুষের বিভ্রান্তি কাটিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এ কথা জানিয়ে দিলেন নয়াদিল্লি এইমসের ডিরেক্টর তথা কেন্দ্রের কোভিড টাস্ক ফোর্সের অন্যতম সদস্য ডাঃ রণদীপ গুলেরিয়া। এমনকী ইউভি (আলট্রা ভায়োলেট) লাইট বক্সের মতো ব্যবস্থায় ভাইরাস-মুক্ত করার প্রক্রিয়াও কার্যকরী নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘অনেককে দেখেছি আনাজও স্যানিটাইজ করেন। এটা করবেন না। সব্জি-ফল ভালো করে ধুয়ে নিলেই হবে। টাকা, ফাইল বা সংবাদপত্রে স্যানিটাইজার না দিয়ে হাত ভালো করে ধুলেই সংক্রমণ এড়ানো যায়। 

    করোনা নিয়ে আতঙ্কের লাগাতার প্রচারে ইতিমধ্যেই দেশের জীবন-জীবিকা ভালোরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, লকডাউন আর নয়। জীবিকার ধারা বজায় রেখেই করোনা মোকাবিলা করতে হবে। অথচ, এর পরও নেতিবাচক প্রচার চলছে। কাপ্পা, ডেল্টা, ডেল্টা প্লাস, ওমিক্রমনের মতো করোনা ভাইরাসের নানা ভ্যারিয়েন্ট ভারতে হানা দিলেও জনসংখ্যার সামান্য অংশই কিন্তু এতে সংক্রামিত বলে রিপোর্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। তাই আতঙ্ক নয়, সাবধানতা আর সতর্কতার পরামর্শই দিচ্ছে কেন্দ্র। পরিসংখ্যান বলছে, কোভিড সন্দেহে এ পর্যন্ত ৬৯ কোটি ৯০ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮৪ জনের পরীক্ষা হয়েছে। তার মধ্যে সক্রিয় আক্রান্ত, মৃত এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার মোট সংখ্যা ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ ৮২ হাজার ১২৯। শতাংশের হিসেবে যা মাত্র ৫.২৩। অভিযোগ অবশ্য এর মধ্যেও রয়েছে। প্রথমত, অনেকে সংক্রমণ বুঝেও টেস্ট করাচ্ছেন না। আর দ্বিতীয়ত, কিছু রাজ্য কোভিড মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা দেখাচ্ছে না। সংক্রামিতের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তির উপসর্গ না থাকলে পরীক্ষা না করানোর পরামর্শ অবশ্য এক্ষেত্রে একটা ফ্যাক্টর। তাতে আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের থেকে কম হচ্ছে। কিন্তু মৃত্যু?  কোভিড মৃত্যুর তথ্য গোপন করা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকী বিদেশি বহু মিডিয়াও জর্জরিত করছে ভারতকে। সেই প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ভারত সরকারকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘মিথ্যা বলছে কেন্দ্র। বিশ্ব জানে। কিন্তু ভুগছে ভারত।’ যদিও রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে মোদি সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এ ধরনের প্রচার বিভ্রান্তিমূলক। কোভিডের মৃত্যু কোনওভাবেই লুকনো হচ্ছে না। বরং যেসব রাজ্য আগে দৈনন্দিন হিসেব ঠিক মতো দেয়নি, তাদের আপ-টু-ডেট করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল রাজ্যগুলিকে প্রকৃত কোভিড মৃত্যুর তথ্য জানানোর আবেদন করার পর ছবি কিছুটা বদলেছে। বৃহস্পতিবারই কেরল তাদের পরিসংখ্যানে আগে মৃত ৯৬ জনের তথ্য জুড়েছে। মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে জানিয়েছে, কোভিডে মৃতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য আড়াল করবেন না।  
  • Link to this news (বর্তমান)