• মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, ট্রেন প্রাণ নিল তাঁরও
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়ির দোমোহনিতে রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মাথাভাঙা-২ ব্লকের লতাপাতা গ্রাম পঞ্চায়েতের গুমানি গ্রামের এক ব্যক্তির। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম রঞ্জিত বর্মন (৪২)। তিনি রাজস্থানের জয়পুর শ্রমিকের কাজ করতেন। প্রায় একবছর পর বাড়ি ফিরছিলেন, ‘অভিশপ্ত’ ওই ট্রেনে চেপে।

    পুলিস ও মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রঞ্জিতের মেয়ে সপ্তাহ খানেক আগে মারা যায়। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে ফিরছিলেন। এ ব্যাপারে মৃত রঞ্জিত বর্মনের দাদা প্রদীপ বর্মন বলেন, ভাই একবছর পরে জয়পুর থেকে বাড়িতে ফিরছিল। ভাইয়ের আড়াই বছরের মেয়ে আটদিন আগে মারা যায়। শিলিগুড়িতে ট্রেনটি যখন ছিল, সেই সময়ে আমাদের সঙ্গে ভাইয়ের শেষ কথা হয়েছিল। এরপরেই আমরা দুর্ঘটনার খবর জানতে পারি। ওকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতেই ময়নাগুড়িতে চলে যাই। ভাইয়ের মৃতদেহ তখন মর্গে রাখা হয়েছিল। 

    পরিবার ও প্রতিবেশীরা মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোকে ভেঙে পড়ে। ঘনঘন মূর্ছা যান তাঁর স্ত্রী অণিমা বর্মন। শুক্রবার পুলিস প্রশাসনের সহায়তায় মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যার পর এলাকায় মৃতদেহ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবারের লোকজন। প্রতিবেশী বিশ্বনাথ বর্মন বলেন, রঞ্জিত দীর্ঘদিন রাজস্থানের জয়পুরে কাজের সূত্রে থাকলেও বাড়িতে এলেই পাড়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে দেখা করত। সবার খোঁজখবর নিত। এমন একজন মানুষের মৃত্যু হওয়ায় আমরা সকলে শোকাহত। 

    প্রসঙ্গত, রাজস্থান থেকে আসা গুয়াহাটিগামী বিকানির এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ময়নাগুড়ির দোমোহনির দক্ষিণ মৌয়ামারি গ্রামে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিস সুপারের নেতৃত্বে কোচবিহার জেলা পুলিসের একটি দল উদ্ধার কাজে ময়নাগুড়ি যায়। এদিনও কোচবিহারের মৃত বাসিন্দার দেহ বাড়িতে পৌঁছে দিতে দিনভর তৎপর ছিল পুলিস। 

    মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিস সুপার অমিত ভার্মা বলেন, গুমানির বাসিন্দা রঞ্জিত বর্মনের মৃতদেহ এদিন বাড়িতে পৌঁছে দিতে সবরকম ভাবে সহায়তা করা হয়। তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছি।
  • Link to this news (বর্তমান)