• অন্তঃসত্ত্বাকে খুন করে সোনার হার নিয়ে চম্পট, জখম স্বামীও
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বার গলায় কোপ বসিয়ে সোনার চেন ছিনতাই করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই মহিলা। নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে হাসিমারার ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতে ফ্লাইওভারের কাছে। ছিনতাইবাজদের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন ওই মহিলার স্বামীও। তিনি কোচবিহারের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। 

    বৃহস্পতিবার রাতে গাড়িতে করে স্বামীর সঙ্গে যাচ্ছিলেন ওই প্রসূতি। দুষ্কৃতীরা গাড়ি থামিয়ে প্রথমে তাঁর উপর চড়াও হয়। ওই মহিলার গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ মারে। দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গেলে গাড়ির চালক মহিলার স্বামীকেও এলোপাথাড়ি কোপায় । পুলিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত মহিলার নাম মজিদা বেগম (২০)।  জখম হয়েছেন তাঁর স্বামী এক্রামুল হক। 

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরের গোড়ায় ওই ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ের পাশ থেকে উদ্ধার হয় জয়গাঁ থানার নিখোঁজ ট্রাফিক এএসআই রতন করের মৃতদেহ। ফের ওই এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকার মানুষজন। জেলার পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ঘটনার তদন্তে তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত ঘটনার কিনারা করতে পারব। 

    ওই দম্পতির বাড়ি কোচবিহারের ঘোকসাডাঙা থানার কুশিয়ারবাড়ি গ্রামে। এক্রামুল নিজের গাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রাঙালিবাজনায় তাঁর দিদির বাড়িতে যান। সেখান থেকে তাঁরা বীরপাড়ায় হার্ডওয়ারের কিছু জিনিসপত্র কিনতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে জয়গাঁ যান ভুটানের টাকা বদল করতে। এক্রামুলই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গাড়িতে স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ ছিল না।  খবর পেয়ে হাসিমারা ফাঁড়ির পুলিস স্থানীয়দের সাহায্যে জখমদের হাসিমারা বায়ুসেনা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাতেই তাঁদের আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মজিদা বেগমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই বধূ আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। জখম এক্রামুলকে পাঠানো হয় কোচবিহারে।  সেখানে একটি নার্সিংহোমের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন তিনি।  

    মজিদার বাপেরবাড়ি কোচবিহারের পাতলাখাওয়া পঞ্চায়েতের শুটিংক্যাম্প গ্রামে। পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তথা মৃত মহিলার  বাপেরবাড়ির প্রতিবেশী গোলাম মোস্তাফা সরকার বলেন, শুনেছি মাঝরাস্তায় দুষ্কৃতীরা এক্রামুলের গাড়ি দাঁড় করায়। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের কুপিয়ে সোনার চেন ও নগদ নিয়ে চম্পট দেয়। আমরা চাই ওই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে পুলিস দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুক।
  • Link to this news (বর্তমান)