• জৌলুসহীন শতাব্দীপ্রাচীন জয়দেব-কেন্দুলির মেলা
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: গঙ্গাসাগর থেকে শতাব্দীপ্রাচীন জয়দেব-কেন্দুলির মেলা- এবছর সবটাই যেন অচেনা। চেনা ভিড় নেই। দোকান বসলেও খরিদ্দার নেই। স্নানঘাটেও পুণ্যার্থীদের থেকে পুলিশের সংখ্যা বেশি নজরে পড়ল। এমনকি জয়দেব-কেন্দুলির মেলার মুখ্য আকর্ষণ আউল-বাউল-সাঁই-ফকিরের আনাগোনাও সেভাবে চোখে পড়েনি। আখড়াগুলিও যেন শূন্য। পুণ্যার্থীদের ভিড় ছিল না রাধাবিনোদ মন্দিরেও। এরকম দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। যেন একেবারে জৌলুসহীন জয়দেব-কেন্দুলি মেলা। করোনা অতিমারি-ই যে এর মূল কারণ তা বলা বাহুল্য।

    জয়দেব-কেন্দুলি মেলায় খুবই কম সংখ্যক পুণ্যার্থী এসেছেন জানিয়ে মেলা কমিটির সম্পাদক তথা বোলপুর মহকুমা শাসক অয়ন নাথ বলেন, ‘কোভিডের কারণে এবারে খুব কম সংখ্যক পুণ্যার্থী এসেছেন। শুক্রবার ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ৫০০০ বা তার একটু বেশি সংখ্যক পুণ্যার্থী ঘাটে স্নান করেছেন। অন্যান্যবার ওই সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়।’ এর কারণ কী? অয়ন নাথের মতে, ‘বীরভূম জেলায় ৬টি পুর এলাকায় আংশিক লকডাউন চলছে। কোভিড-বিধি মেনে চলার জন্য প্রচার করা হচ্ছে। সেইসব কারণেই মানুষ মেলামুখো হননি।’ কোভিড পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে দেরিতে মেলার অনুমতি দেওয়ার জন্যই জয়দেব মেলা কার্যত জনশূন্য বলে মনে করছেন মেলার বিক্রেতা থেকে স্থানীয়রা।

    প্রসঙ্গত, জয়দেব-কেন্দুলির মেলা হবে না, কেবল পুণ্যস্নান হবে বলে প্রথমে জেলা প্রশাসন জানিয়েছিল। মেলার তিদিন আগে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা করোনাবিধি মেনে জয়দেব মেলা হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তারপরই মেলায় অস্থায়ী আখড়া, দোকান তৈরির কাজ শুরু হয়। ফলে বিক্রেতার সংখ্যা যেমন কম, তেমনই কম পুণ্যার্থীর সংখ্যা। সুদূর মুর্শিদাবাদ থেকে ঢোলক বিক্রি করতে আসা শ্রীদাম দাস বলেন, ‘দু-দিন আগে মেলায় এসেছি। একটিও ঢোলক বিক্রি হয়নি। গাঁটের কড়ি ভেঙেই খাওয়া-দাওয়া চলছে।’ মেলায় বসেছে নাগরদোলা। সেটিতেও চড়ার লোক নেই। দোকানদারদের সকলেরই বক্তব্য, ‘বছরের পর বছর জয়দেব মেলা দেখে আসছি। এই ধরনের মেলা এই প্রথম।’

    জয়দেব মেলার মূল আকর্ষণ আখড়া। সেখানে প্রতিটি আখড়াতে বসে বাউল-ফকির ও কীর্তন গানের আসর। সেটাও এবারে জৌলুসহীন। জমায়েত একেবারে নেই। মেলায় আগত ভক্তরা তিনদিন ধরে বিনা পয়সায় পেটপুরে দুবেলা খাবার পান। এবার সে সব বন্ধ।

    তবে মেলায় ভক্তদের আনাগোনা কম থাকলেও পুলিশের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে মেলায়। তাছাড়াও নাশকতা রুখতে রাখা হয়েছে বম্ব স্কোয়াড। স্নানের আগে ভোররাতে প্রতিটি ঘাটে কুকুর নিয়ে পুলিশ তদন্ত করেছে। বসেছে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার। মাথার উপরে ড্রোন সব সময় ছবি করছে। সবমিলিয়ে, এবারে জয়দেবের মেলায় পুণ্যার্থী বা বাউলের ভিড় নয়, নজর কেড়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    জৌলুসহীন জয়দেব-কেন্দুলির মেলা
  • Link to this news (এই সময়)