• পাক জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে ভারতই ‘মূল মন্ত্র’, কটাক্ষ সন্ত্রাস নিয়েও
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • এইসময় ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের নয়া জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে ভারতই যেন ‘মূল মন্ত্র’। সম্প্রতি পাক পার্লামেন্টে গৃহীত প্রথম ন্যাশনাল সিকিউরিটি পলিসি বা জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে প্রথমবার ভারতের মতোই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কটাক্ষের সুর শোনা গেল পাক সরকারের গলায়। পাশাপাশি নয়া নীতিতে সবথেকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ভারত। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামাজিক ঐক্য নষ্ট করার জন্য সন্ত্রাসবাদকে দায়ী করা হয়েছে পাকিস্তানের নয়া জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে।

    দীর্ঘদিন ধরেই পাক মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নানা অভিযোগ করে এসেছে ভারত। যদিও এই নীতিতে দেশের মাটিতে সন্ত্রাস কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পাক সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে স্পষ্ট বলা হয়েছে নয়া নীতিতে।

    যদিও এর আগে বহুবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ করেছে ভারত।সেই অভিযোগ এবার প্রতিফলিত হলো পাকিস্তানের নয়া জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা অঙ্গ হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া একটি ভয়ংকর ভুল।দেশের উন্নতিতে সন্ত্রাসবাদ ধ্বংসাত্মক ভূমিকা পালন করে।"

    সূত্রের খবর , ৬২ পাতার নয়া জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে ১৬ বারেরও বেশি ভারতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ভারতের উল্লেখ থাকতে স্বাভাবিকভাবে রয়েছে কাশ্মীর প্রসঙ্গও। কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে নয়া নীতিতে।কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান দুই দেশের সম্পর্কের মূলভিত্তি বলে দাবি করা হয়। নয়া জাতীয় নিরাপত্তা নীতি তৈরির পেছনে মূল ভূমিকা রয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোইদ ইউসুফের। তিনি মার্কিন থিঙ্ক ট্যাংক এর একজন প্রাক্তন বিশ্লেষক। তাঁর তত্ত্বাবধানে তৈরি হয় নিরাপত্তা নীতিটি। সরকার পরিবর্তন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই নীতি পর্যালোচনা হবে বলে পাক প্রশাসনের তরফে জানানও হয়েছে।

    গত সাত বছর ধরে কৌশলগত চিন্তাভাবনার পর গত ডিসেম্বরে এই নয়া নীতি গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। ঘরে এবং বাইরে বন্ধুত্ব ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি, জাতীয় নিরাপত্তা নীতি প্রধান লক্ষ্য বলে দাবি করা হয় ইসলামাবাদের তরফে।

    তবে ভারতে বর্তমানে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এনএসপিতে। এছাড়াও পূর্ব সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অতি সক্রিয়তাকে নেতিবাচক ভাবে দেখছে পাকিস্তান। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অমীমাংসিত কাশ্মীর ইস্যুতে নয়াদিল্লির দিকে আঙুল তুলেছে ইসলামাবাদ।

    FATFএর ধূসর তালিকা থেকে পাকিস্তানকে বের করে আনতে এই নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যার মধ্যে পুলিশি ব্যবস্থার উন্নয়নে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সংস্থাগুলিকে শক্তিশালী করা। সন্ত্রাসে অর্থায়ন বা টেরর ফাইন্যান্সিং এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া ইত্যাদির উল্লেখ রয়েছে।

    উল্লেখ্য, দীর্ঘ দুই দশক ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ করে এসেছে ভারত। প্রথমে বিশ্বাস না করলেও পাক মাটিতে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পরেই টনক নড়ে আন্তর্জাতিক মহলের। তারপর উরি এবং পুলওয়ামার ঘটনায় বেকায়দায় পড়তে হয় ইসলামাবাদকে। এফএটিএফ এর ধূসর তালিকা ভুক্ত হয় পাকিস্তান। প্রবল আর্থিক সংকটের মুখে এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পাকিস্তানের নয়া নিরাপত্তা নীতি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।
  • Link to this news (এই সময়)