ওলিম্পিকসে সাফল্যে শ্যুটিং নিয়ে উৎসাহ বাড়ছে, চ্যাম্পিয়নশিপে রেকর্ড প্রতিযোগী
বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ওলিম্পিকের মঞ্চে দেশের মুখরক্ষা করেছেন ভারতের শ্যুটাররা। ১৪০কোটির দেশে মাত্র ছ’টি ওলিম্পিক মেডেল এসেছে। যার মধ্যে তিনটি এসেছে শ্যুটিং থেকেই। বিশ্বমঞ্চে জোড়া পদক পেয়ে মনু ভাকের এখন দেশের আইডল। শ্যুটিং নিয়ে অভিভাবকদের উৎসাহ বাড়ার আঁচ মিলল রাজ্য শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে। সোমবার আসানসোলে স্টেট শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন করেন বলিউডের তারকা অভিনেতা তথা সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। সেখানেই রাজ্যের নানা প্রান্তের পাশাপাশি ভিনরাজ্যের প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেখা গিয়েছে। গতবছর এই প্রতিযোগিতায় ৬০০জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা ৮০০তে ঠেকেছে। শুধু উচ্চবিত্ত নয়, এখন মধ্যবিত্তরা শ্যুটিংয়ে ছেলেমেয়েদের পদক আনার স্বপ্ন দেখছে। ২০২৮সালের ওলিম্পিকের পদক জয়কে পাখির চোখ করে এদিন অনেকেই পিস্তল হাতে শ্যুটিংয়ে অংশ নিলেন।
ওয়েস্টবেঙ্গল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভিকে ঢল বলেন, শ্যুটিং এখন আর উচ্চবিত্তদের খেলা নয়। নিজেদের সন্তানকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে সবশ্রেণির অভিভাবকরা শ্যুটিংকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। প্রতি বছর প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এবার সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৮০০জন প্রতিযোগী রাজ্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিল।
২০০৪সালের ওলিম্পিকে শ্যুটিংয়ে সোনা পেয়ে অভিনব বিন্দ্রা দেশবাসীর মনে এক নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিল। শ্যুটিংয়ে সেবারই প্রথম কোনও ভারতীয় সোনার পদক জিতেছিলেন। তারপর থেকেই অনেকে শ্যুটিংয়ে পারদর্শী হওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। ২০বছর পর এবার শ্যুটারদের নিয়ে ফের দেশজুড়ে চর্চা চলছে। চর্চার কেন্দ্রে ২২ বছর বয়সি শ্যুটার মনু। স্বাধীন ভারতে তিনিই প্রথম মহিলা যিনি ওলিম্পিকে জোড়া পদক পেলেন। উইমেন্স ১০ মিটার এয়ার পিস্তল এবং মিক্সড ১০মিটার এয়ার পিস্তল বিভাগে তিনি ব্রোঞ্জ পেয়েছেন। ব্রোঞ্জ জিতেছেন আরও এক শ্যুটার স্বপ্ননীল কুশালে। আয়োজক সংস্থার দাবি, দেশেব আরও তিনজন শ্যুটার চতুর্থ স্থান অর্জন করায় অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ হাতছাড়া হয়েছে। রাইফেল- পিস্তল হাতে শ্যুটিংয়ের বিশ্বমঞ্চে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখছেন অনেকে। যার প্রমাণ মিলল রাজ্য শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে। এখন কোনও প্রতিযোগিতা হাতছাড়া করতে চাইছেন না। নিজেদের সেরাটা দিয়ে আয়োজকদের দৃষ্টিতে থাকতে চাইছেন তাঁরা। ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। এবার তা ৫৬তম বর্ষে পড়ল। সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভিনরাজ্যের প্রতিযোগীদের আগ্রহ তুঙ্গে ছিল। সোমবার প্রতিযোগিতার উদ্বোধনের দিনই সেই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।
আসানসোল রাইফেল ক্লাবের শ্যুটিং রেঞ্জে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সাংসদের কাছে হস্টেল তৈরির আর্জি জানানো হয়। এদিন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেই এমপি বলেন, ভারতীয় শ্যুটাররা দেশের গর্ব। তাঁরা আরও কী কী সুবিধা পেতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে আমাদের সকলকে। আমাকে এখানে হস্টেল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। তিনি বলেন এই প্রতিযোগিতা শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের তাবড় শ্যুটাররা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন। আমাদের স্বপ্ন পরবর্তী ওলিম্পিকে বাঙালি শ্যুটাররা পদক জয় করবেন।
জেলাশাসক পোন্নবলম এস বলেন, ওলিম্পিকই হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলার মঞ্চ। এখানকার শ্যুটারদের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভবিষ্যতের তারকারা। তাঁদের ঠিকমতো লালনপালন করতে হবে।