• বোলপুরে ঝাঁ চকচকে বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারে আসে না কাকপক্ষীও, হতাশ ব্যবসায়ীরা
    বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের ঝাঁ চকচকে বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারে ক্রেতা না আসায় গেট বন্ধই থাকে। ওই বাজারে কী পাওয়া যায়, তা বেশিরভাগ মানুষই জানেন না। বোলপুরে এসে পর্যটকদের প্রথম গন্তব্য হয় সোনাঝুরির হাট। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারে মোটা টাকায় স্টল লিজ নেওয়া ব্যবসায়ীদের করুণ আর্তি, পর্যটকদের অন্তত একবার এই হাটে আসতে বলুন! একটু সরকারি উদ্যোগ ও প্রচার হলেই বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজার বেঁচে যাবে। বহু শিল্পী ও ব্যবসায়ী লাভবান হবেন।


    জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, বছরে একবার করে ওখানে মেলা বসানোয় প্রচার আগের থেকে অনেকটা বেড়েছে। আরও কী করা যায়-তা চিন্তাভাবনা করে দেখছি।


    বোলপুরের শিবপুরের বাইপাসে বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারে গেলে দেখা যাবে, সামনে রবীন্দ্রনাথের বিশাল অবয়ব। তার পিছনে ৫০ একর জায়গাজুড়ে চোখ ধাঁধানো ছোট ছোট দোকানঘর। কিন্তু বাইরে লোহার দরজায় সবসময়ই তালা দেওয়া থাকে। মুখ্যমন্ত্রী অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই বাজার তৈরি করেছিলেন। নানা হস্তশিল্পীদের এখানে পসরা বসানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রচার না থাকায় এই সাজানো গোছানো বাজারে কাক-পক্ষীরও দেখা মেলে না। লোকজন না আসায় সাধারণত গেট বন্ধই থাকে।


    ভিতরের প্রায় ২৫টি কটেজ হস্তশিল্পীদের হাতে গিয়েছে। সেখানকার এক কাঁথাস্টিচ শিল্পী বিধান মণ্ডল বলেন, ২০২০ সাল নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী দীঘার সভা থেকে এই শিল্পগ্রামের উদ্বোধন করেন। আমরা শিল্পীরা ১৫ বছরের জন্য কটেজ লিজ নিতে ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু লোকজন তো কেউ আসে না! দু’বছর ধরে বছরে একবার করে শুধু মেলা বসছে। ব্যস এটুকুই! আর কোনও প্রচার নেই। কত স্বপ্ন নিয়ে এখানে এসেছিলাম!


    অপর এক হস্তশিল্পী বলেন, খুব সুন্দর করে কটেজ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি দোকানে একটি করে শৌচাগার রয়েছে। সবকিছু একেবারে পরিকল্পনামাফিক। কিন্তু সরকারি প্রচার না থাকায় মানুষ জানেনই না, এই সমস্ত দোকান আসলে কী কাজে লাগে! ক্ষুদ্র শিল্পদপ্তরও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অন্তত সরকারি কিছু অনুষ্ঠান-যেমন দোল উৎসব, হস্তশিল্প মেলা এই বাজারের ভিতর করা হলে প্রচার হয়ে যাবে। তখন এবাজারে মানুষের আনাগোনা বাড়বে। পর্যটকরা শহরে ঢোকার মুখেই কেনাকাটার সুযোগ পাবেন। আমরা এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।


    বোলপুরের বিধায়ক তথা ক্ষুদ্র শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, খুব তাড়াতাড়ি আমরা এনিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছি। আশপাশের এলাকায় যেসব জটিলতা ছিল, তা কাটিয়ে উঠেছি। বেশকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হবে। ওখানে একটি সরকারি অফিস খোলা যায় কিনা-তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)