• ভাতা বন্ধ, উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে পড়শীদের দেওয়া খাবারেই দিনযাপন করেন অসুস্থ বৃদ্ধা
    বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, ইটাহার: বয়স সত্তর পেরিয়েছে। তিন কুলে আর কেউ নেই। হাঁটাচলা করতে পারেন না। প্রতিবেশীদের দয়ায় কোনওদিন খাবার জুটলেও বেশিরভাগ দিন অনাহারে থাকেন ইটাহারের সরাইদিঘির ফুলমণি টুডু। প্রায় তিনবছর ধরে বার্ধক্য ভাতা বন্ধ। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি থেকে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে বোনের বাড়িতে এখন আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে দূরত্বের কারণে বিডিও অফিসেও যেতে পারেন না তিনি।


    যেখানে এখন থাকেন, সেখানকার জনপ্রতিনিধি বা প্রধানও খোঁজ নেন না বলে অভিযোগ। শেষ বয়সে নিজের অন্ন জোগাতে সরকারি সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন অসুস্থ বৃদ্ধা। তবে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন ইটাহারের বিডিও দিব্যেন্দু সরকার। ভাতার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে কুশমণ্ডি ব্লক প্রশাসনও। প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি ব্লকের নাভোর গ্রামের নেংরা টুডুর সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে হয় ফুলমণির। নিঃসন্তান ফুলমণির দাম্পত্য ও যৌবন কেটে যায় সতীনের সন্তানদের লালনপালন করে। স্বামীর মৃত্যুর পর সেই সন্তানদের কাছে বোঝা হয়ে ওঠেন ফুলমণি। ফলে ৮ বছর আগে ইটাহারে বাপের বাড়ি চলে আসেন। সরাইদিঘি গ্রামে বোনের ছোট টিনের চালায় আশ্রয় নেন। এখানেও তিনি একা। কারণ, বোনের ছেলেও ভিনরাজ্যে থাকেন। পরিযায়ী শ্রমিক। দেখার কেউ নেই। বর্তমানে ফুলমণি অসুস্থ। টিনের চালার এক কোণে মাটিতে মশারি টাঙিয়ে কোনওমতে রাত কাটান। অসহায় বৃদ্ধাকে দেখে মায়া হয় প্রতিবেশীদের। এলাকার বাপি চৌধুরী বলেন, কোনও সরকারি সাহায্য পেলে বৃদ্ধাটি অন্তত খেয়েপরে বাঁচতে পারতেন। প্রতিবেশীরাই আপাতত দেখভাল করছেন অসুস্থ বৃদ্ধাকে। তাঁরাই পালা করে দুমুঠো খাবার দিচ্ছেন ফুলমণিকে। প্রতিবেশী শান্তি সোরেন জানান, এখানকার জনপ্রতিনিধি ও প্রধানকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা হয়নি। বৃদ্ধার পরিচয়পত্র এখনও কুশমণ্ডি ব্লকে থাকায় ভাতা পেতে কার্যত সমস্যায় পড়েছেন। পান না কোনও ভাতা। আগে বার্ধক্য ভাতা পেলেও এখন বন্ধ। তবে ইটাহার ব্লক প্রশাসন আপাতত প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ইটাহারের বিডিও বলেন, ওই বৃদ্ধাকে সাহায্য করতে আমরা কুশমণ্ডি ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।  ইটাহারের সরাইদিঘি গ্রামের বৃদ্ধা মহিলা।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)