খোশমেজাজেই রয়েছে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া হস্তিশাবক তিস্তারানি
বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: তিস্তাপাড়ের বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল থেকে গত ২৬ মে উদ্ধার হয়েছিল একটি হস্তিশাবক। অসুস্থতার কারণে শাবকটির মা মারা গিয়েছিল। মা না থাকার কারণে সদ্যোজাতর ঠাঁই হয় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হলং সেন্ট্রাল পিলখানায়। মাতৃহারা সদ্যোজাতকে বড় করে তোলা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং কাজ। সেই চ্যালেঞ্জই নিয়েছেন হলং সেন্ট্রাল পিলখানার মাহুত ও পাতাওয়ালারা।
বনদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শাবকটির বর্তমানে বয়স বড়জোর পাঁচ মাস। যেহেতু তিস্তাপাড়ে জন্ম, সেই জন্য হলং পিলখানায় আনার পর নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিস্তারানি’। পিলখানার মাহুত ও পাতাওয়ালারাই এই নাম রেখেছেন। মা না থাকায় পিলখানায় কয়েক দিন মনমরা ছিল। কোনও খাবার মুখে তুলছিল না। যার ফলে শাবকটি একটু দুর্বলও হয়ে পড়েছিল। তাতে বনদপ্তরের কর্তাদের কপালে আরও বেশি করে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। কিন্তু, পিলখানার মাহুত ও পাতাওয়ালাদের সেবা যত্নে মায়ের শোক ভুলে যায় শাবকটি। ক্রমশ বুনো স্বভাব ভুলে হস্তিশালার পরিবেশ মানিয়ে নেয় সে। বর্তমানে পিলখানায় থাকা নিজের বয়সি অন্যান্য হস্তি শাবকদের সঙ্গে সকাল বিকেল খুনসুঁটিতেও মেতে উঠেছে। তারমধ্যে অশান্ত ভাব দেখা যাচ্ছে না। নিয়মিত দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। খাওয়ানো হচ্ছে কচি লতাপাতাও। সুস্থ থাকলেও জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণী চিকিৎসকরা ঝুঁকি না নিয়ে হস্তিশাবকটির দিকে নিয়মিত নজর রাখছেন।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেন, হস্তিশাবকদের নামকরণের সঙ্গে জঙ্গলের নিজস্ব পরম্পরা মেনে চলা হয়। সেই জন্য তিস্তাপাড়ে জন্ম হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয়েছে তিস্তারানি। সরকারি নিয়ম মেনে এই নাম সার্ভিস বুকেও তোলা হয়েছে।