• দূষণ আটকাতে নদীর চরে বনাঞ্চল পুরসভার
    বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দূষণ অব্যাহত। বায়ুতে বাড়ছে কার্বনডাইঅক্সাইডের পরিমাণ। যার জেরে নাভিশ্বাস উঠেছে নাগরিকদের। তাই দূষণ রুখতে শিলিগুড়ি শহরে মহানন্দা নদীর জেগে ওঠা চরে কৃত্রিম বনাঞ্চল গড়ছে পুরসভা। ইতিমধ্যেই তারা বনদপ্তরের সহযোগিতায় সেখানে মেহগনি, জারুল, শিশু, আমলকি প্রভৃতি গাছের প্রায় ২০০টি চারা রোপণ করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে আরও ১৮শো গাছ লাগাবে বলে খবর। 


    মেয়র গৌতম দেব বলেন, নদীর ওই চর দীর্ঘদিন ধরে পতিত। সেচদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করেই বনদপ্তর সহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সেখানে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। বৈকুণ্ঠপুরের ডিএফও এম রাজা বলেন, একসময় ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের বনাঞ্চল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু, পুরসভার সঙ্গে এই প্রথম কৃত্রিম বনাঞ্চল গড়া হচ্ছে রাজ্যে। দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সেখানে নদী ভাঙনের হাত থেকে পাড়ও রক্ষা পাবে। গাছগুলি বড় হওয়ার পর শহরের মধ্যে এক টুকরো বনাঞ্চলের স্বাদও মিলবে। 


    উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যে বড় শহরগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি অন্যতম। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার এই শহরে জনবসতি ক্রমবর্ধমান। বহুতল আবাসন, শপিংমল, রাস্তা সম্প্রসারণ প্রভৃতির জন্য প্রচুর গাছ কাটা হয়েছে। যার জেরে অন্যান্য বড় শহরের মতো এখানেও বাড়ছে দূষণের মাত্রা। শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বাসিন্দারা। এমন প্রেক্ষাপটে সূর্য সেন পার্কের পিছনে মহানন্দার চরে বনাঞ্চল তৈরির কাজে হাত দিয়েছে পুরসভা। রবিবার তারা বনদপ্তরের বৈকুণ্ঠপুর ডিভিশনের সহযোগিতায় সেখানে গাছের চারা লাগিয়েছে। সোমবারও তারা সেখানে বৃক্ষরোপণ করে। এদিন অবশ্য একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় গাছ লাগানো হয়। পুরসভার উদ্যান বিভাগ সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে বনাঞ্চল তৈরির জন্য প্রায় এক হেক্টর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেচদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করার পর সেই জমি বাঁশ দিয়ে ঘেরা দেওয়া হয়। এবার সেখানে মেহগনি, শিশু, জারুল গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। গবাদি পশুর হাত থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খাঁচা দিয়ে গাছগুলি ঘিরে দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত গাছ পরিচর্যা করার জন্য বনদপ্তর ও পুরসভা যৌথ টিমও তৈরি করেছে। 


    পুরসভার এক অফিসার জানান, নজরদারি চালাতে বাতিস্তম্ভ ও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপও বন্ধ হবে। ডিএফও বলেন, দু’দিনে সেখানে প্রায় ২০০টি গাছের চারা লাগানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ১৮শো চারা লাগানো হবে। 


    মহানন্দার লালমোহন মৌলিক নিরঞ্জন ঘাট থেকে পূর্বদিকে কিছুটা এগলেই এলাকাটি। রাস্তার বাঁ পাশেই ওই বিশাল চর। এই চর ও সূর্য সেন পার্কের মাঝ দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে হিলকার্ট রোড ও সেভক রোডের বিকল্প রাস্তা। কাজেই বনাঞ্চলটি তৈরি হওয়ার পর এলাকাটির সৌন্দর্য বাড়বে বলেই পুরকর্তৃপক্ষের দাবি।  নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)