• জুনিয়ররা অবিলম্বে পরিষেবা দিন, কর্মবিরতির দশম দিনে হাইকোর্টে সিনিয়র ডাক্তার
    বর্তমান | ২০ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। সোমবারও পথে নেমেছিলেন তাঁরা। একই ইস্যুতে চলছে জুনিয়র ডাক্তারদের লাগাতার কর্মবিরতি। বিষয়টি নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন চিকিৎসক কুণাল সাহা। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা না মেনে কর্মবিরতি করছেন চিকিৎসকরা। তাই তাঁদের অবিলম্বে কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হোক। এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক আদালত। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুণাল সাহা বলেন, ‘কর্মবিরতির জেরে হাসপাতালগুলিতে রোগীদের চিকিৎসায় ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। অসহায় রোগীদের মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। এই কর্মবিরতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে চিকিৎসকদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিক আদালত।’ তাঁকে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আজ মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতালের জরুরি পরিষেবার উপর কোনও প্রভাব পড়ছে না। সিনিয়র চিকিৎসকরা পরিষেবা চালু রেখেছেন। 


    হাইকোর্ট অবশ্য এর আগেই জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি নিয়ে মুখ খুলেছিল। কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসকদের কাজে ফেরার অনুরোধ করেছিলেন স্বয়ং প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেছিলেন, ‘ঘটনার অভিঘাতে চিকিৎসকদের এই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ স্বাভাবিক। তবে এই পবিত্র পেশায় রোগীদের প্রতি চিকিৎসকরা তাঁদের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেন না। বিশেষত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের কথা তাঁদের ভাবতেই হবে।’ আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনের রাস্তা থেকে সরে আসার অনুরোধও করেন তিনি। তারপরও অবশ্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এখন বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্ট আলাদা করে কোনও নির্দেশ দেয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সব পক্ষের। 


    এদিকে, আর জি করের ঘটনায় ইতিমধ্যে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। আজ, মঙ্গলবার সেই মামলারও শুনানির সম্ভাবনা। সুপ্রিম কোর্টে কী হয়, সেদিকও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব মহলের। হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং উপযুক্ত পরিবেশের দাবিতে এই মামলায় যুক্ত হয়ে চেয়ে এদিন আবেদন করেছে চিকিৎসা সংক্রান্ত সংগঠন ফেডারেশন অব দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব মেডিক্যাল কনসালটেন্ট অব ইন্ডিয়া (ফ্যামসি)। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী সরাসরি প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ সামনে রেখে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)