• বিধাননগরে সংক্রমণ বাঁধনছাড়া, তিন দিনে আক্রান্ত প্রায় ৩৫০০
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিয়রে পুর নির্বাচন। এরই মধ্যে প্রশাসনের চিন্তা বাড়াচ্ছে বিধাননগরে করোনার চোখ রাঙানি। পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের রিপোর্ট বলছে, গত তিন দিনে আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি পুরনাগরিক। প্রশাসনের পাশাপাশি এই তথ্য রীতিমত আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও। 

    বিধাননগর পুরসভার কমিশনার দেবাশিস ঘোষ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের করোনা ডেটা অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত মঙ্গল এবং বুধবার সংক্রামিতের সংখ্যা ছিল ১১০০।  বৃহস্পতিবার তা আরও কিছুটা বেড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, শুক্রবারের তা ১৩০০-র কাছাকাছি ছুঁয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, গত সোমবার দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে রেকর্ড তৈরি হয়েছে বিধাননগরে। ওইদিন আক্রান্তের সংখ্যা ১৩০০ পার হয়ে গিয়েছিল। প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ও বিধাননগরে এরকম বিভীষিকার অবস্থা দেখা যায়নি বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। গত বছরের কোভিড রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন বিধাননগরে দৈনিক আক্রান্তের নিরিখে সর্বোচ্চ ৬৯০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে চলতি মাসে সেই রেকর্ড  ভেঙে  ঊর্ধ্বশ্বাসে এগোচ্ছে করোনা। 

    তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিধাননগরের আশপাশের অন্যান্য পুরসভাগুলিতে ইতিমধ্যেই সপ্তাহের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবার করে বাজার, শপিং মল, মুদির দোকান, রেস্তোরাঁ সহ সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার সুফল ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছে দক্ষিণ দমদম পুরসভা। শুক্রবারে ওই এলাকার করোনা রিপোর্ট বলছে, সংক্রমণ অনেকটাই কমেছে। এদিন ৩৫টি ওয়ার্ড মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৫। বৃহস্পতিবার সংখ্যাটা ছিল ১২০। এক ধাক্কায় দৈনিক সংক্রমণের হার অনেকটাই কমেছে বলে দাবি পুরসভার মুখ্য প্রশাসক পাচু রায়ের। দমদম পুর এলাকাতেও সোমবার ও বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের বিধিনিষেধ লাগু করা হয়েছে। তবে বিধাননগরে সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত হলেও তেমন কোন‌ও সিদ্ধান্ত এখন‌ও পর্যন্ত গৃহীত হয়নি। এদিন বিডি, সিএ সহ সল্টলেকের একাধিক ব্লকের মার্কেট চত্বর ঘুরে দেখা গিয়েছে চরম উদাসীনতা এখন‌ও রয়েছে মানুষের মধ্যে। ক্রেতা, বিক্রেতাদের মাস্কহীন মুখ দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন করলে অজুহাত মিলেছে নানারকম। কেউ বলছেন মুড়ি খাচ্ছিলাম তাই একটুখানির জন্য খুলেছি। আমার কারও অজুহাত, বউনির আগে ক্যাশবাক্স পুজো করছিলাম, তাই মাস্ক পরতে ভুলে গিয়েছি। 
  • Link to this news (বর্তমান)