• বোটানিক্যাল গার্ডেনে সাফাইয়ের নামে কাটা হচ্ছে বিরল গাছও, বিক্ষোভ
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জঙ্গল ও জঞ্জাল সাফাইয়ের নামে বোটানিক্যাল গার্ডেনে  শতাব্দীপ্রাচীন এবং বিরল প্রজাতির মেহগিনি সহ একাধিক গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠল। শুক্রবার উদ্যানের মূল প্রবেশপথের সামনে এই অভিযোগ এনে বিক্ষোভ দেখায় ‘ডেইলি ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশন’। পাশাপাশি আরও একগুচ্ছ দাবি তোলা হয় তাদের তরফে। যদিও উদ্যান কর্তৃপক্ষের দাবি, উম-পুন ঝড়ের কারণে মৃত গাছগুলি কেটে ফেলা হয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরেই শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের নানা অংশে জঞ্জাল জমে রয়েছে। হাল ফেরাতে তা পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভকারী সংগঠনের দাবি, পরিবেশ আদালতের রায় উপেক্ষা করে চলছে সবুজনিধন যজ্ঞ। বহু গাছ জীবিত থাকলেও তা কেটে ফেলা হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে কিছু শতাব্দীপ্রাচীন গাছ। কিছু রয়েছে বিরল প্রজাতির। এ নিয়ে তাদের তরফে স্থানীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়। এক বিক্ষোভকারীর দাবি, কেটে ফেলা গাছগুলির মধ্যে ছোট পাতার একটি মেহগিনিও রয়েছে। যার বিজ্ঞানসম্মত নাম ফুয়েটেনিয়া হিউমিলিস। মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই গাছটি কমপক্ষে ১০০ বছর আগে ব্রিটিশদের হাত ধরে  এদেশে আসে। যার কোনও দ্বিতীয় নমুনা এই দেশে আর নেই। জঙ্গল ও জঞ্জাল সাফাইয়ের নামে সেই গাছটিকেও জীবিত অবস্থায় কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া আরও ছোট-বড় গাছ এই নিধনযজ্ঞের বলি হয়েছে। এক কর্মী বলেন, ঠিকাদার দিয়ে কাজ হচ্ছে। তাই তারা তাদের ইচ্ছেমতো কাজকর্ম করছে। একটি গবেষণামূলক বাগানকে সাধারণ পার্ক বানিয়ে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। বিরল গাছটি অত্যন্ত মূল্যবান। তাই সেটির কাটা অংশ নিলামে উঠতে পারে। তা থেকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু লোক নিজেদের পকেট ভরাবার পরিকল্পনা করছে। কর্মীদের এই অভিযোগ মানতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। বোটানিক্যাল গার্ডেনের ডিরেক্টর দেবেন্দ্র সিং বলেন, গাছটি উম-পুন ঝড়ে উপড়ে গিয়েছিল। পরে মারা যায়। তাই সাফাইয়ের সময় সেটি কেটে ফেলা হয়েছে। কিছু মানুষ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। এছাড়া সবুজ নিধনের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সব কাজ হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)