• দশ দিগন্তকে সামনে রেখে বিধাননগর পুরসভা ভোটে নামল তৃণমূল কংগ্রেস 
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধাননগরের দশ দিগন্ত। পুর পরিষেবার স্বার্থে ১০টি লক্ষ্য স্থির করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নিকাশি, রাস্তার পরিকাঠামো, জল-সরবরাহ এবং বর্জ্যমুক্ত বিধাননগর—এই চার পরিষেবা আরও উন্নত করার আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের দরবারে যাবেন প্রার্থীরা। এছাড়াও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পর্যটন ক্ষেত্রেও বিধাননগরের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। ওয়ার্ডভিত্তিক তৈরি হবে পরিকল্পক কমিটি। বাসিন্দাদের অভাব-অভিযোগের মেটাতে তৈরি হবে ‘নিষ্পত্তি সেল’। পাড়ায় সমাধান অ্যাপের মাধ্যমেও বিধাননগরের মানুষ তাদের অভাব-অভিযোগের কথা জানাতে পারবেন পুর প্রতিনিধিদের। 

    শুক্রবার দুপুরে সল্টলেকের দিশারি কমিউনিটি হলে দশদিগন্তের কথা উল্লেখ করে ইস্তাহার প্রকাশ করল তৃণমূল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, মন্ত্রী সুজিত বসু, রথীন ঘোষ, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়, মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, এছাড়া দলীয় নেতৃত্বর তরফে উপস্থিত ছিলেন পার্থ ভৌমিক এবং তপতী দত্ত। একইসঙ্গে ইস্তাহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধাননগরের প্রায় সমস্ত তৃণমূল প্রার্থী। তবে এদিন গরহাজির ছিলেন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সংসদ সৌগত রায় বলেন, তিনি হয়তো প্রচারে রয়েছেন বা কোন‌ও কাজে আসতে পারেননি। ইস্তাহার সম্পর্কে সাংসদ বলেন, পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য বিধাননগরের নিকাশি ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গতবছর দেখা গিয়েছে, অতিবৃষ্টিতে বিধাননগরবাসী যন্ত্রণায় ভুগছেন। ইস্তাহারে বলা হয়েছে, বর্তমান ৫১টি পাম্পিং স্টেশন এবং নিকাশি লাইনের মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সমস্ত গালিপিট এবং নর্দমাগুলিকে ব্লকেজ মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, পলিমুক্ত করে খালগুলির পুনরুদ্ধারের কথাও বলা হয়েছে তৃণমূলের ইস্তাহারে। নিকাশি তো পাশাপাশি সড়ক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে মাইক্রো-সারফেসিং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিধাননগরের অ্যাডেড এরিয়া সহ নিউটাউন এবং রাজারহাটের অনেক এলাকায় এখনও সারফেস ওয়াটার পৌঁছয়নি। সেই সমস্ত বাসিন্দাদের কথা মাথায় রেখে জল সরবরাহের জন্য মাস্টার প্ল্যান এবং ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেমের কথা বলা হয়েছে ইস্তাহারে। 

    বাসিন্দাদের মতে, বিধাননগরের বড় সমস্যা জঞ্জাল। তা মেটাতে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জোড়াফুল নেতৃত্ব। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট নির্মাণ করা হবে। বর্জ্য কম্প্যাক্টর স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর কথা চিন্তা ভাবনার মধ্যে রয়েছে। 

    একইসঙ্গে প্লাস্টিক মুক্ত বিধাননগর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে শাসক দলের। নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গোটা শহর জুড়ে প্রায় ৪০০টি নতুন সিসি ক্যামেরা বসানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজারগুলিকে পুনর্নবীকরণ এবং পার্কের সৌন্দর্যায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে দলীয় ইস্তাহারে। একইসঙ্গে, জোড়াফুল শিবির জানিয়েছে,  বাসিন্দাদের সমস্যার সমাধানের জন্য একটি নতুন অ্যাপ চালু করা হবে। খারাপ রাস্তা, নর্দমা বা ভ্যাটের দুরবস্থার ছবি সাধারণ মানুষ সেই অ্যাপে পোস্ট করতে পারবেন। ১৪ দিনের মধ্যে এই সমস্যাটির সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস শাসক দলের। 

    পুর পরিষেবার পাশাপাশি, সংস্কৃতির দিক থেকে বিধাননগরকে অন্যমাত্রা দিতে চাইছে শাসক দল। এলাকার দেওয়াল এবং রাস্তাগুলোকে সুন্দর করার লক্ষ্যে একটি পাইলট আর্ট ডিস্ট্রিক্ট প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে দল। এছাড়াও বার্ষিক শিল্প সঙ্গীত ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন করার কথাও ইস্তাহারে বলা হয়েছে। ২০১৫ সালের বিধাননগর পুরভোটে গণ্ডগোলের পুনরাবৃত্তি হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তৃণমূল নেতৃত্বকে। সাংসদ সৌগত রায় বলেন, জবরদস্তি করে ভোট করানোর প্রয়োজন নেই। যা কাজ হয়েছে মানুষ তাতে‌ই খুশি হয়ে ভোট দেবেন। তবে কোন‌ও প্রার্থী যদি জবরদস্তি করতে চান সেক্ষেত্রে দল ব্যবস্থা নেবে।
  • Link to this news (বর্তমান)