• কাটা নাইলনের ফেন্সিং দিয়ে অবাধে ঢুকছে বাঘ
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • এই সময়: লোকালয়ে যাতে বাঘ না ঢোকে তার জন্য লাগানো হয়েছিল নাইলনের জাল। কিন্তু ওই জাল কেটেই কিছু মৎস্যজীবী যাচ্ছেন কাঁকড়া ধরতে। আর সেই কাটা জাল দিয়েই একের পর এক বাঘ ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। বন দপ্তরের নজরে আসায় পর ফের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই জাল লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে।

    বারেবারে লোকালয়ে সুন্দরবন থেকে বাঘ চলে আসায় ত্রস্ত সুন্দরবনবাসী। জল-জঙ্গলে ঘেরা বাদাবনে মানুষ ও বাঘের সংঘাত বহু পুরোনো। অতীতে ফি বছর লোকালয়ে চলে আসত বাঘ। তাই বাঘ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েই এর পর সুন্দরবনের গ্রাম লাগোয়া বাঘের জঙ্গল বরাবর নদীর পাড়ে লাগানো হয়েছিল নাইলনের জাল। যাতে জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়ে নদী সাঁতরে গ্রামে বা লোকালয়ে ঢুকে পড়তে না পারে। সেই নাইলনের জাল লাগানোর পর থেকে খুব ভালো সুফল মিলছিল সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বন বিভাগের। যে কারণে গোসাবা, বাসন্তী ব্লকের ঝড়খালি কিংবা কুলতলির বিস্তীর্ণ গ্রামগুলোতে বাঘের আনাগোনা বেশ অনেকটাই কমে গিয়েছিল বলা যেতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি আবারও নতুন করে বাঘের আনাগোনা বেড়েছে। একেবারে সরাসরি জঙ্গল থেকে বাঘ ঢুকে পড়ছে কুলতলি, গোসাবা কিংবা বাসন্তীর ঝড়খালি এলাকায়। এর জন্য আবার আগের মতো আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন গ্রামবাসীরা। যার ফলে উদ্বেগ বাড়ছে বন দপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের।

    দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গাতেই চোরাগোপ্তা ভাবে কিছু মৎস্যজীবী সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে অবৈধ ভাবে কাঁকড়া ধরতে যাচ্ছেন। নাইলনের জাল কেটে ঢুকছে তাঁরা। বিষয়টি বন কর্মীরা টেরও পাচ্ছেন না। সেই কাটা জালের অংশ থেকেই মাঝেমধ্যে সুন্দরবনের বাঘ বেরিয়ে নদী সাঁতরে আগের মতো চলে আসছে গ্রামগুলিতে। ইতিমধ্যে বন দপ্তরের রায়দিঘি রেঞ্জের অন্তর্গত কুলতলি বিট এলাকায় যে সমস্ত গ্রাম সংলগ্ন বাঘের জঙ্গল রয়েছে সেখানকার জাল মেরামতের কাজে হাত লাগানো হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এ কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু যথেষ্ট সংখ্যক বনকর্মী না থাকায় বিস্তৃত এলাকায় দিনে ও রাতে সমানতালে নজরদারি চালানো সম্ভব হয় না।

    সুন্দরবন এলাকার দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগের পাশাপাশি সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকাতেও এ বার জোর কদমে শুরু হবে কাটা জাল চিহ্নিত করার পর্ব। সেখানেও একই ভাবে জাল মেরামতির কাজ করা হবে। সেই সঙ্গে যে সমস্ত ধীবর কিংবা মৎস্যজীবী অসচেতন ভাবে গোপনে কাঁকড়া ধরার জন্য বাঘের জঙ্গলে নাইলনের জাল কেটে ঢুকে যাচ্ছেন তাঁদেরকেও সচেতন করা হবে। বাঘ সংরক্ষণ কর্মী জয়দীপ কুণ্ডু বলেন, 'নাইনলের জাল একটি এমন একটি বাধা, যা বাঘকে জঙ্গলের মধ্যে থাকতে বাধ্য করে। তাই এর ভালো ফলও মিলেছে সুন্দরবনে। কিন্তু অনেকেই কাঁকড়া ধরতে গিয়ে সেই জাল কেটে ফেলেছে। অবিলম্বে জাল কাটার প্রবণতা বন্ধ হওয়া দরকার।'

    দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বন দপ্তরের ডিএফও মিলন কান্তি মণ্ডল বলেন, 'আমাদের কর্মীরা সর্বক্ষণ নজর রাখে নাইলনের জালের ওপর। যখনই কাটা দেখতে পায় তৎক্ষণাৎ সেই কাটা জাল মেরামত করে দেন। আমরা ধীবরদের জাল কাটা থেকে বিরত রাখতে সচেতন করার কাজ শুরু করেছি।'

    চলছে নাইলন ফেন্সিং মেরামতির কাজ
  • Link to this news (এই সময়)