• বিধাননগরে জল জমা রুখতে 'মাস্টার প্ল্যান'
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • তাপস প্রামাণিক

    বিধাননগর পুর-এলাকায় জল জমার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে তৈরি হচ্ছে জিআইএস-মাস্টার প্ল্যান। বৃষ্টি হলেই বিধাননগরে কেন জল জমছে, তার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। সেই মতো নিকাশি পরিকাঠামোকে নতুন করে ঢেলে সাজা হবে। নিকাশি নালার খোলনলচে বদলে পাশাপাশি খালগুলিকে সংস্কার করা হবে। গড়ে উঠবে নতুন পাম্পিং স্টেশন।

    রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সূত্রে খবর, সল্টলেক ও রাজারহাট নিয়ে গঠিত বিধাননগর পুরসভা এলাকার ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান তৈরির জন্য কোনও পেশাদার সংস্থাকে দিয়ে সমীক্ষা করানো হবে। এই এলাকার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, অতীতে কতটা বৃষ্টি হতো এবং ভবিষ্যতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে কি না, সে বিষয়ে বিশদে তথ্য সংগ্রহ করবেন বিশেষজ্ঞরা। বিধাননগর পুরসভা এলাকায় কোথা থেকে কত পরিমাণ বৃষ্টির জল নিষ্কাষিত হতে পারে, তার একটা আনুমানিক হিসাব কষা হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে ভবিষ্যতে বিধাননগর এলাকা বানভাসি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখবেন বিশেষজ্ঞরা। এর জন্য এইচইআরএএস এবং এসডব্লিউএমএম কম্পিউটার মডেল অনুসরণ করা হবে। যে সব নিকাশি খাল দিয়ে বিধাননগর পুর-এলাকার জল বাইরে বেরিয়ে যায় তার ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে কি না, খাল দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে জল প্রবাহিত হচ্ছে কি না, তা জানতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। খালগুলো থেকে কতটা দূষণ ছড়াচ্ছে, সেটাও পরিমাপ করা হবে।

    পুকুর, ডোবা, জলাশয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে বৃষ্টির জল জমা হয়। সেগুলোর হাল-হকিকত জানতে সমীক্ষা করা হবে। পুরো এলাকার টোপোগ্রাফিক্যাল সার্ভের পাশাপাশি জিআইএস মানচিত্র তৈরি করা হবে। কোথায় কোথায় জল জমার প্রবণতা রয়েছে, সেই এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করা হবে। কেনই বা সেখানে জল জমছে, সেটাও খুঁজে বের করা হবে। যারা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করবে, তারা সমস্যা মেটানোর পথও বাতলে দেবে। নিকাশি নালার পরিমাপ, বর্তমান অবস্থা, নিকাশি ব্যবস্থাকে সচল রাখতে পুরসভার হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মচারী রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। যে সব নালা দিয়ে শুধুমাত্র বৃষ্টির জল নিষ্কাশিত হয়, সেগুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করা হবে। আবহাওয়ার পরিবর্তন নিকাশি ব্যবস্থার উপর কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটাও জানতে পারা যাবে সমীক্ষা রিপোর্ট থেকে।

    রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের এক শীর্ষকর্তা জানান, বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন তৈরি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনও ড্রেনেজ পরিকল্পনা তৈরি হয়নি। গত এক দশকে বিধাননগরের জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। সমানতালে বেড়েছে জনসংখ্যা। সেই মতো নিকাশি পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে বর্ষার সময় সল্টলেক এবং রাজারহাটে জল দাঁড়িয়ে যায়। গত বর্ষায় বিধাননগরে বহু বাড়িতে জল ঢুকেছে। এ নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে। এই সমস্যা মেটাতে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। সেই লক্ষ্যেই জিআইএস মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। এর উপর ভিত্তি করেই বিধাননগরের নিকাশি ব্যবস্থার খোলনলচে বদল করা হবে। মূলত দু'টি খাল দিয়ে বিধানগরের বৃষ্টির জমা জল বাইরে বেরিয়ে যায়। এগুলি হলো কেষ্টপুর, বাগজোলা খাল এবং ইস্টার্ন ড্রেনেজ ক্যানাল। তার উপর মোট ১৪০০টি অস্থায়ী কাঠামো রয়েছে। খালে জলের প্রবাহ ঠিক রাখতে সেই সব অস্থায়ী কাঠামো সরিয়ে ফেলা হবে।

    একনজরে বিধাননগর

    মোট আয়তন: ৬০.৫ বর্গ কিলোমিটার

    মোট ওয়ার্ড: ৫১টি

    জনসংখ্যা: ৬,৫০০০০

    মোট বাড়ির সংখ্যা: ১,৪৭০০০

    প্রধান নিকাশি খাল: কেষ্টপুর, বাগজোলা এবং ইস্টার্ন ড্রেনেজ ক্যানাল

    ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন: ৮টি

    প্রতীকী ছবি
  • Link to this news (এই সময়)