• সমুদ্রগর্ভে অগ্ন্যুৎপাত, টোঙ্গা দ্বীপপুঞ্জে জারি সুনামির সতর্কতা
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • এইসময় ডিজিটাল ডেস্ক: ফের সুনামির আশঙ্কা।‌ প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতের ফলে শনিবার সুনামির সতর্কতা জারি করল প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত টোঙ্গা দ্বীপপুঞ্জ।

    অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সমুদ্রের ঢেউয়ের উৎপত্তি হয়। আর সেই ঢেউয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে গোটা দ্বীপপুঞ্জে সর্তকতা জারি করেছে টোঙ্গা আবহাওয়া বিভাগ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে হুঙ্গা টোঙ্গা হুঙ্গা হাপাই আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদগীরণ হতে শুরু করে। তারপর বিশাল আকার ধারণ করে সমুদ্রের ঢেউ। যা দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা দ্বীপপুঞ্জে।

    টুইটারে সেই ভয়াবহ সমুদ্রের ঢেউ এর ছবি আপলোড করো শুরু করেন নেটিজেনরা।জনৈক লেখেন, "অগ্ন্যুৎপাতের ভয়াবহ শব্দ শুনতে পাচ্ছি, বৃষ্টি আর ছাই ঢেকে গিয়েছে আকাশ।"

    টোঙ্গার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার অগ্নুৎপাতের সূত্রপাত। তারপর থেকে দেশের বিজ্ঞানীরা গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। সংবাদমাধ্যম সূত্র আরও বলা হয়,২০ কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই।

    দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় অবস্থিত এই টোঙ্গা দ্বীপপুঞ্জ। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এবং নিউজিল্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত এই দ্বীপটি। ১৬৯ টি সম্মিলিত দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাটি আগ্নেয়গিরি প্রবণ এলাকা। একাধিক আগ্নেওগিরি এই অঞ্চলে সুপ্ত অবস্থায় থাকার জন্য একে 'প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা' বলা হয়।

    নিউজিল্যান্ড থেকে এই দ্বীপপুঞ্জের দূরত্ব ২৩০০ কিলোমিটার। টোঙ্গা দ্বীপপুঞ্জ সুনামি সর্তকতা জারি হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে নিউজিল্যান্ড সরকার।

    টোঙ্গায় অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নিউজিল্যান্ডের উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রের ঢেউ শক্তিশালী এবং অস্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

    অন্যদিকে, এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সুনামি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আমেরিকান সামোয়া দ্বীপপুঞ্জেও। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে মার্কিন সুনামি নজরদারি সংস্থাগুলি। পাশাপাশি অগ্নুৎপাত এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি ওপর নজর রাখছে অস্ট্রেলিয়াও।

    সমুদ্রের এই ভয়াবহতায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিজিও। এদেশের সাংবাদিকভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। সেখানে সমুদ্রে ভয়াবহতার রূপ ধরা পড়ে। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে লোকজনকে দৌড়ে পালাতে দেখা গিয়েছে।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর বুকে প্রথম আছড়ে পরে সুনামি। যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় একাধিক দেশ প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যস্ত হয় ভারত-শ্রীলঙ্কা সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশও। নষ্ট হয় বহু সম্পত্তি। দুই দশক পেরিয়ে গেল হয়তো সেই ক্ষত আজও ভুলতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি।
  • Link to this news (এই সময়)