• মা-বাবার অধিকার নয়, গুরুত্ব পাবে সন্তানের স্বার্থ: শীর্ষ কোর্ট
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • নয়াদিল্লি: নাবালক সন্তানের হেফাজতের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বাচ্চার ভালো থাকাই মূল বিচার্য- জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। বিচারপতি অজয় রাস্তোগি এবং বিচারপতি অভয় এস.ওকার বেঞ্চের স্পষ্ট বক্তব্য, 'নাবালক সন্তানের ভালো থাকাই মূল বিচার্য বিষয়। যাঁদের মধ্যে হেফাজত নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে, তাঁদের অধিকারের প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক। আদালত বরাবর এই নীতিতেই চলে এসেছে।'

    একজন আমেরিকা প্রবাসী স্বামী এবং তাঁর স্ত্রীর সন্তানের হেফাজত নিয়ে মামলার প্রসঙ্গেই শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য। মহিলার দাবি ছিল, তিনি সন্তানকে নিয়ে আমেরিকা ফেরত যেতে চান না। আর তাই বাচ্চার হেফাজত দাবি করছেন আমেরিকা নিবাসী বাবা। আবেদনকারী মহিলার কৌঁসুলি জানান, মা বাচ্চার প্রাথমিক দেখভালকারী। বাচ্চার স্বার্থে তাঁকে আমেরিকা ফিরে যেতে বাধ্য করা মহিলার ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তার অধিকারে হস্তক্ষেপ। কৌঁসুলির আরও দাবি ছিল, বাচ্চাটির নাগরিকত্বের উপর তার ভালো-মন্দ নির্ভর করে না। বাচ্চাটি যে কোনও দেশের নাগরিক হতে পারে। কিন্তু আদালত যদি মনে করে বাচ্চার স্বার্থে তাকে ভারতে রেখেই মানুষ করা উচিত, তা হলে তাকে ভারতে মায়ের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হোক।

    এই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, 'হেফাজতের মামলায় অভিভাবকদের ব্যক্তিগত অধিকারের থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় বাচ্চার ভালো থাকার বিষয়টিতে। নাবালক সন্তানের স্বার্থে যদি মনে করা হয়, সে মায়ের হেফাজতে না থাকাই ভালো, তা হলে বাচ্চার বয়স পাঁচ বছরের কম হলেও আদালত তাকে মায়ের হেফাজতে না-ও দিতে পারে, সে অধিকার আদালতের রয়েছে।' বিচারপতিদের মতে, সন্তানের হেফাজতের বিষয়টির সঙ্গে অনেকগুলি মানবিক বিষয় যুক্ত থাকে, তাই বিষয়টি জটিল। আর সেই কারণেই নাবালক সন্তানের হেফাজত নির্ধারণের কোনও একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা থাকতে পারে না। কারণ এখানে নাবালক সন্তানের স্বার্থই মূল বিচার্য বিষয়।

    প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে হাওড়ায় চার বছরের একটি শিশুর হেফাজত নিয়ে মামলায় পালিকা মায়ের কাছে বাচ্চাটিকে রাখার পক্ষে মত দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। মা এবং দিদিমার মৃত্যুর পর প্রতিবেশী এক মহিলার কাছে বাচ্চাটি বেড়ে উঠলেও হাইকোর্টের যুক্তি ছিল, বাচ্চাটি পালিকা মায়ের কাছে কতটা ভালো থাকবে, তা নিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত নয়। আর তাই, বাচ্চাটিকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

    এই মামলাটির ক্ষেত্রে অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে। যেমন, বাচ্চাটির মা আমেরিকা যেতে চাইলে ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর সিদ্ধান্ত স্বামীকে জানাতে হবে। বাচ্চার বাবা তাঁদের যাওয়া, আলাদা থাকা এবং খরচ সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা করবেন। মহিলা আমেরিকায় গেলে তাঁর এবং সন্তানের ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসে পর্যাপ্ত অর্থ দিতে বাধ্য থাকবেন বাচ্চাটির বাবা। কিন্তু মহিলা যদি শিশুটিকে নিয়ে আমেরিকা না যান এবং ১৫ দিনের মধ্যে তা বাচ্চাটির বাবাকে না জানান, তা হলে আমেরিকা নিবাসী বাবা বাচ্চাটির হেফাজত দাবি করতে পারবেন।
  • Link to this news (এই সময়)