• তৃণমূলের কলহে BJP-র লাভ নেই,কল্যাণ তরজায় 'অরুচি' দিলীপের
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২২
  • এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: কল্যাণ-অপরূপা তরজায় BJP-র কোনও লাভ-লোকসান নেই। শনিবার চন্দননগরে দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে এসে তৃণমূলের অন্তর্কলহ নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন BJP-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি Dilip Ghosh। একইসঙ্গে ভোট পিছোনো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    সম্প্রতি করোনা প্রতিরোধে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মণ্ড হারবার মডেল ও ভোট পিছনো মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে তরজা শুরু হয়েছে। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ Kalyan Banerjee একদিকে যেমন প্রকাশ্যে দলের সর্বভারতীয় সম্পাদকের সমালোচনা করেছেন, তেমনই পাল্টা তাঁকে আক্রমণ করেছেন আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের বাণ থেকেও রেহাই পাননি কল্যাণ। যা নিয়ে তৃণমূলের অন্তর্কলহ প্রকাশ্যে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদলের নেতাদের কলহে যে আদতে বিরোধীরা ফায়দা তুলবে তা বলা বাহুল্য। কিন্তু, এদিন সেকথা উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যে BJP-র প্রাক্তন সভাপতি বলেন, ‘কল্যাণ-অপরূপা তরজায় BJP-র কোনও লাভ-লোকসান নেই।’ একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলীপের সংযোজন, ‘ওদের ভেতরে কলহ থাকে কিন্তু এখন একটু বেড়ে গিয়েছে। যে ধরনের লোক নিয়ে পার্টি চলছে, এর বেশি কিছু আশা করা যায় না। এটাই প্রকৃতপক্ষে TMC-র কালচার।’

    অন্যদিকে, পুরভোট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, মানুষ কী চাইছে, সেটাই শেষ কথা। মানুষের চাপেই ভোট পিছোচ্ছে। তবে ভোট পিছোনোর ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ায় নির্বাচন কমিশনকেও একহাত নেন দিলীপ ঘোষ। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কেন নির্বাচন কমিশনকে TMC বা সরকারের ঘাড়ে বন্দুক রাখতে হবে? নির্বাচন কমিশনকে কড়াভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিশন যে মেরুদণ্ডী প্রাণী, সে কথা বুঝিয়ে দিতে হবে।’

    এদিন ফের ভোট পিছোনোর পক্ষে সওয়াল করেন দিলীপ ঘোষ। তাই আসানসোল, বিধাননগরের পর এদিন সকাল থেকে চন্দননগরে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারে বেরোন BJP-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি। আবার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের BJP প্রার্থী সোমা রায়ের বাড়িতে গিয়ে গাছ থেকে পেয়ারাও পাড়তে দেখা যায় তাঁকে।

    অন্যদিকে, সমস্ত পক্ষের দাবি মেনে ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে চার পুরসভার ভোট পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। চার পুরসভার ভোট পিছিয়ে দেওয়া হলে আপত্তি নেই, শনিবারই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল রাজ্য। এই চিঠি পাওয়ার পরেই ভোট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। জানা গিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কবে হবে গণনা সেই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে প্রচার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এক থাকছে। অর্থাৎ নিয়মবিধি মেনে করা যাবে প্রচার। নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টায় আগে প্রচার বন্ধ করতে। উল্লেখ্য, ২২ জানুয়ারি বিধাননগর , চন্দননগর, শিলিগুড়ি এবং আসানসোল এই চার পুরসভার ভোট হওয়ার কথা ছিল।
  • Link to this news (এই সময়)