রাসবিহারীতে এক মিছিলে নির্যাতিতার বাবা বলেন, গত ৮ অগাস্ট রাতে ওর সঙ্গে আমাদের কথা হয়। বলে বাইরে থেকে খাবার আনা হয়েছে। টানা ডিউটি করতে হচ্ছিল ওকে। পরদিন সকাল ১১টায় জানতে পারি আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। যেখানে ও মানুষকে বাঁচাতে গিয়েছিল সেখানেই তার জীবন চলে যায়। পরে আমরা জানতে পারি বিষয়টি তা নয়। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে আরজি কর হাসপাতালে। যে ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম পায় না তাকে ৭-৮ ঘণ্টা কোনও জুনিয়র, হাসপাতালের কোনও স্টাফ বা গ্রুপ ডি কর্মচারী কারও প্রয়োজন হল না? এই প্রশ্নের উত্তর চেয়ে গত ১ মাস ধরে ঘুরছি। কেউ আমাকে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না। আজ এত লোকের জমায়েত দেখে বুঝতে পারছি বিচার আমরা পাবই। এত লোকের চাওয়া কখনও মিথ্যে হবে না। যারা এই বিচারের জন্য রাস্তায় নেমেছেন তাদের আমি আমার পরিবারের সদস্য হিসবে মনে করছি। আশা করছি যতদিন আমার মেয়ে বিচার না পাবে ততদিন তারা তাদের এই উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন। আমি আমার মেয়ের বিচার পাব।
অন্যদিকে, নির্যাতিতার মা বলেন, আমি এক সন্তানহারা মা। একমাস হল আমার সন্তাকে হারিয়ে ফেলেছি। তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই চরম লাঞ্চনার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হল। আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আপনাদের আমি আত্মীয় বলে মনে করি। আমার অনুরোধ যতদিন না আমার মেয়ে বিচার পায় ততদিন আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে যান। আপনারা প্রতিবাদটা চালিয়ে যান। প্রশাসন আমার সঙ্গে কোনও রকম সাহায্য করেনি। এমন একটা ক্রাইম হয়েছে যা ঢাকা দেওয়ার জন্য ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য সব চেষ্টা হয়েছে। আমি চাই স্বাস্থ্য় দফতরে যে ঘুঘুর বাসা তৈরি হয়েছে তা ভাঙা হোক। যারা প্রমাণ লোপাটের সঙ্গে জড়িত তারা যেন সাজা পায়। আর যেন কোনও মাকে সন্তানহারা না হতে হয়।