সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: প্রত্যন্ত চা বাগানের গরিব ছেলেমেয়েদের সরকারি চাকরি পেতে দিশা দেখাচ্ছে পুলিস কোচিং সেন্টার। তাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আলিপুরদুয়ার জেলায় এই মুহূর্তে পুলিসের দু’টি কোচিং সেন্টার চলছে। একটি মাদারিহাটের ভুটান সীমান্তে দুর্গম লঙ্কাপাড়ায় অন্যটি কালচিনির দলসিংপাড়ায়। গত তিন বছরে জেলা পুলিসের দু’টি কোচিং সেন্টার থেকে ৪০ জনেরও বেশি গরিব ছেলেমেয়ে চাকরি পেয়েছেন। হালে জয়গাঁ থেকে চাকরি পেয়েছেন আরও চার জন ছেলেমেয়ে। বিনামূল্যে বইপত্র, পড়ার সরঞ্জাম ও কোচিং দিয়ে চা বাগানের অসহায় পড়ুয়াদের চাকরি পাইয়ে দিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিসের এই কোচিং সেন্টার।জেলা পুলিস সূত্রে খবর, কোচিং সেন্টারের ৫০ জনের মতো ছেলেমেয়ে চাকরি পেয়েছেন বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইএসএফ ও রাজ্য পুলিসে। রেলেও কয়েকজন চাকরি পেয়েছেন। বর্তমানে জেলা পুলিসের দু’টি ফ্রি কোচিং সেন্টারে ৩০০ জনের মতো ছেলেমেয়ে কোচিং নিচ্ছে।
এক সময় মাদারিহাটের ভুটান সীমান্তে চা বাগান অধ্যুষিত মাকরাপাড়া, লঙ্কাপাড়া, হান্টাপাড়া, গ্যারগেন্দা, ধুমচিপাড়া বা রামঝোরার মতো এলাকাগুলি দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। লঙ্কাপাড়া ও মাকরাপাড়ায় দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্য দিনের বেলায় আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ডলোমাইটের লরি থেকে তোলা আদায় করত। তার জন্য লঙ্কাপাড়ায় বাধ্য হয়ে পুলিস ক্যাম্পও চালু করতে হয়েছিল জেলা পুলিসকে। পুলিসের কড়া নজরদারি ও টহলদারিতে সে সব এখন রাতারাতি উধাও। অপরাধের বাড়বাড়ন্তে রাশ টানতে জেলা পুলিস চালু করেছে ফ্রি কোচিং সেন্টার। এখন তারই সুফল মিলছে। জেলা পুলিসের দু’টি কোচিং সেন্টারের গুরু দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন বীরপাড়ার শিক্ষক মদন সরকার। আলিপুরদুয়ারের পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, আমরা চাই চা বাগানের পড়ুয়ারা আরও বেশি করে কোচিং সেন্টারে আসুক।