• একেবারে বদলে যাবে বাংলা, ২০২৫-এ কোন কোন বড় প্রকল্পের সূচনা?
    আজকাল | ০৪ জানুয়ারি ২০২৫
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জন্য ২০২৫ সাল যেন রূপান্তরের বছর। চলতি বছরে রাজ্য়ে অন্তত পাঁচটি প্রকল্প চালু হবে, যা সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এ রাজ্যে ছবি। এগুলির মধ্যে অন্যতম, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে একটি মেট্রো রুটের সূচনা। এছাড়াও কলকাতাকে ভারতের প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মানচিত্রে তুলে আনতে ২০২৫ সালে 'সিলিকন ভ্যালি'র উদ্বোধন হতে পারে। 

    এক নজরে ২০২৫ সালে বাংলার ৫ বড় প্রকল্প-

    ১. জয় হিন্দ মেট্রো, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করবেকলকাতা মেট্রোর মুকুটে নয়া পালক জোড়ার সময়ের অপেক্ষা। গত মাসেই নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর রুটে পরীক্ষামূলকভাবে সফল ট্রায়াল রান চালায় মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এই রুটে পরিষেবা শুরু হতে পারে। নোয়াপাড়া থেকে দমদম ক্যান্টনমেন্ট হয়ে জয় হিন্দ অর্থাৎ বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথে মেট্রো চলবে। এই লাইনটি চালু হলে কলকাতা এবং শহরতলির মানুষের বিমানবন্দরে পৌঁছনো অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই রুটে মেট্রোর দু'টি সাবওয়ে থাকবে, একটি স্টেশনকে ব্যস্ত যশোর রোডের সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং অন্যটি বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। বিমানবন্দর রুট চালু হয়ে গেলে, যাত্রীরা নোয়াপাড়া ইন্টারচেঞ্জের মাধ্যমে তিনটি মেট্রো লাইনেই (ইয়ালো, ব্লু এবং গ্রিন) যাতায়াত করতে পারবেন।

    মেট্রোর ব্লু লাইনs (নতুন গড়িয়া-দক্ষিণেশ্বর) এসপ্ল্যানেড ইন্টারচেঞ্জে স্টেশন, যা পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর গ্রিন লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত, যা শহরের দক্ষিণ এবং উত্তর উভয় অংশের যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছা দেবে। এই ৬.২ কিমি রুটে থাকবে চারটি মেট্রো স্টেশন। যেগুলো হল- নোয়াপাড়া, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, যশোর রোড এবং জয় হিন্দ।

    ২. নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারএ বছর বিমানবন্দরে নতুন এটিসি (ফুল ফর্ম) টাওয়ার এবং কারিগরি কমপ্লেক্স চালু করা হবে। নতুন প্রযুক্তিগত এলাকা নিয়ন্ত্রণ সহ নতুন এয়ার ট্র্যাফিক নেভিগেশন (এটিএন) কমপ্লেক্স ২০২৫ সালের শেষের দিকে চালু হবে। ৫৭ মিটার উচ্চতার কলকাতা বিমানবন্দরের নতুন ভবনটি যোগাযোগ এবং এয়ার ট্রাফিক সিস্টেমের ক্ষেত্রে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এর খরচ প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান নামা-ওঠায় এটিসি-র নজরদারি টাওয়ারটির উচ্চতা ৩৫ মিটার। 

    ৩. সিলিকন ভ্যালিনিউটাউনের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তৈরি হচ্ছে 'বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি'। এই প্রকল্পের মোট বিল্ট আপ এলাকা তিন লক্ষ ৬০ হাজার ৭২ বর্গমিটার। প্রায় ২০ হাজার পেশাদার ব্যক্তির কাজের ব্যবস্থা থাকছে এখানে। বাংলার যুবকদের জন্য এবং এখানকার আইটি ইকোসিস্টেমের জন্য এটি একটি সত্যিকারের আশীর্বাদ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গেছে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আদানি এন্টারপ্রাইজ থেকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস-- সবার পরিপূর্ণ ও বড় অফিস থাকবে খোদ বাংলাতেই। এই প্রযুক্তি হাব চালু হলে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে বলে জানা গিয়েছে। বড় সংখ্যাক কর্মীর প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তো হবেই, পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

    ২০১৮ সালের অগস্টে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর থেকেই কাজ শুরু হয়। কোম্পানিগুলি টেক হাবে ভর্তুকি হারে জমি বরাদ্দ পেয়েছে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক। ৪০টিরও বেশি সংস্থা এই হাবে  ইতিমধ্যেই প্লট পেয়েছে। সরকার ইজারা চুক্তির ভিত্তিতে জমি বরাদ্দ করেছে। ২০২৫ সালেই এই 'বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি'র পথ চলা শুরু হবে।

    ৪.দিঘার জগন্নাথ মন্দিরঅক্ষয় তৃতীয়ায় উদ্বোধন হতে চলেছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। দিঘা সফরে এসে গত ডিসেম্বরেই এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দিঘা সৈকতের কাছাকাছি ২০ একর জমির উপর ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছে বিশালাকার জগন্নাথ মন্দির। পশ্চিমবঙ্গ হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন দ্বারা নির্মিত হচ্ছে এই মন্দির, যা পুরীর শতাব্দী প্রাচীন জগন্নাথ মন্দিরের অনুরূপ। প্রায় ৬৫ মিটার উঁচু এই মন্দিরটি। 

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরীতে যেমন খাজা পাওয়া যায়, এখানে তেমনি প্যাঁড়া, গজা, গুজিয়া পাওয়া যাবে। আগামী ৩০ এপ্রিল, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন উদ্বোধন হবে দিঘার জগন্নাথ মন্দির। মন্দিরের প্রবেশদ্বারে থাকবে চৈতন্যদেবের মূর্তি। উদ্বোধনের ৪৮ ঘণ্টা আগে শুরু হবে পুজো। জগন্নাথ দেবের কাঠ ও পাথরের ২ মূর্তিই থাকবে। উদ্বোধনের দিন কিছু বিশিষ্ট মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সোজা রথের দিন তিনি দিঘায় আসবেন। মন্দিরের আশপাশে সনাতন ধর্মের লোকজন ব্যবসা করবেন। 

    ৫. কালীঘাট স্কাইওয়াককলকাতার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কালীঘাট স্কাইওয়াকটি ২০২৫ সালের প্রথম দিকে উদ্বোধন হতে চলেছে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি গত ডিসেম্বরে দিঘায় ঘোষণা করেছিলেন যে, ৫০০ মিটার দীর্ঘ, ১০.৫ মিটার চওড়া স্কাইওয়াক ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে৷ দুই লেনের স্কাইওয়াকে চারটি এসকেলেটর এবং দু'টি শাখা থাকবে। একটি শাখা মন্দিরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে পুলিশ কিয়স্কের কাছে নামবে, অন্যটি থানার ঠিক আগে কালীঘাট দমকল অফিসের দিকে যাবে। স্কাইওয়াক নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের কালী পুজোর আগে উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হলেও, প্রকল্পটি স্থানান্তরের কারণে তা পিছিয়ে যায়।
  • Link to this news (আজকাল)