• দুই মেয়ের সামনেই মাকে মেরে পুঁতে দিল বাবা! হাড়হিম কাণ্ড বর্ধমানে...
    ২৪ ঘন্টা | ১৫ জানুয়ারি ২০২৫
  • অরূপ লাহা: দুই শিশু কন্যার সামনেই স্ত্রীকে খুন করে বাড়ির মধ্যে পুঁতে রেখে সেই ঘরেই শিশুকন্যাদের নিয়ে রাতে শুয়েছিল অভিযুক্ত স্বামী। হাড় হিম করা এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জঙ্গলমহল আউশগ্রামের যদুগড়িয়া গ্রামে। স্ত্রীকে খুনের  অভিযোগে স্বামী সোম হাঁসদাকে পুলিস গ্রেফতার করেছে। মৃতার নাম লক্ষ্মী হাঁসদা (২৭)। সোমবার রাতে সোম হাঁসদা স্ত্রী লক্ষ্মীকে খুন করে বলে পুলিস সূত্রে খবর। 

    বছর সাতেক আগে সোম হাঁসদার সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয় লক্ষ্মীর। তাদের দুটি শিশু কন্যাও আছে, সোনিয়া ও রাখী। প্রথম জনের বয়স ৬ বছর ও ছোটর বয়স সাড়ে তিন বছর। সোনিয়া স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ধৃত সোম হাঁসদার মা পানমনি হাঁসদা বলেন, ছেলে প্রতিদিন মদ খেত। কাজকর্ম সে রকম কাজ করত না। বৌমা বাধা দিলে ঘরে অশান্তি করত। মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে বৌমাকে দেখতে না পেয়ে ছেলেকে জিজ্ঞেস করি বৌমা কোথায়? তাতে ছেলে জানায়, মার খেয়ে পালিয়ে গিয়েছে।

    এরপরই সন্ধ্যায় বাড়িতে পুলিস এসে ঘর থেকে মাটি খুঁড়ে বৌমার দেহ উদ্ধার করে। ছেলে সোমকেও ধরে নিয়ে যায় আউশগ্রাম থানার পুলিস। সঙ্গে দুই নাতনিকেও নিয়ে যায় থানায়। বড় নাতনি সোনিয়া হাঁসদা গোটা বিষয়টি পুলিসকে জানায়। পুলিস ধৃতকে বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে। ধৃতের মা পানমনি হাঁসদা আরও জানান, শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তাতেই বৌমা মারা যায়। বাড়ির মেঝের মধ্যে মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ মাটি চাপা দিয়ে রাখে।

    এমনকী বাইরে থেকে কেউ যাতে কিছু বুঝতে না পারে তারজন্য দরজায় তালা দিয়ে রাখে সোম। পুলিস মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তালা ভেঙে মেঝের মাটি খুঁড়ে লক্ষ্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। জেলা পুলিস সুপার সায়ক দাস জানান, পারিবারিক বিবাদে স্ত্রী খুন হয়েছে। পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুটি বাচ্চাকে উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে শিশুকন্যাদের হোমে পাঠানো হবে কি না তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)