নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘন কুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের অনেকগুলি জেলায় জনজীবন কিছুটা ব্যাহত হয়। সকালের দিকে অনেকক্ষণ যাবৎ বিঘ্নিত হয় বিমান, ট্রেন, সড়ক ও ফেরি চলাচল। কুয়াশার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে বিমান চলাচলের উপর। এদিন সব মিলিয়ে মোট ৭২টি বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা শুরু হয় বেলা ৯টার পর। আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে যে, আজ, শুক্রবার ভোরে কলকাতা ছাড়াও দুই ২৪ পরগনা, দুই বর্ধমান, দুই মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলায় ঘন কুয়াশা পড়বে। ঘন কুয়াশা পড়তে পারে উত্তরবঙ্গে দার্জিলিংসহ ছয় জেলায়ও। ওইসব স্থানে দৃশ্যমান্যতা ৫০ থেকে ১৯৯ মিটারে নেমে আসতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ায় বায়ুমণ্ডলে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প ঢুকছে। এত ঘন কুয়াশা পড়েছে এজন্যই। অধিক পরিমাণে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি এবং উত্তুরে হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়ার জন্যই শীতের তীব্রতা অনেকটাই কমে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (১৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৭ ডিগ্রি বেশি ছিল। আবহাওয়া কর্তা জানিয়েছেন, আগামী রবিবার সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা কমে কনকনে শীতের আমেজ ফিরে আসবে। শীতের এমন আমেজ থাকবে দু’-তিন দিন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কলকাতা বিমানবন্দর এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে খুব ঘন কুয়াশা পড়েছিল। এই এলাকায় দৃশ্যমান্যতা ৫০ মিটারে নেমে আসে। তাই সকালের দিকে বিমান চালানো সম্ভব হয়নি। বেলা বাড়ার পর রোদে কুয়াশা কাটে। তখন বিমান চলাচল শুরু হয়। এদিন সকালে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ১২টি বিমান কুয়াশার জন্য কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে না পেরে অন্যত্র ঘুরে যেতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে দুবাই থেকে একটি বিমান চেন্নাই চলে যায়। বাকি অধিকাংশ বিমান নামে ভুবনেশ্বরে। দুটি বিমান নামে রাঁচিতে এবং একটি সামসাবাদে। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে মোট ২৬টি বিমান ছাড়তে দেরি হয়। ওড়ার জন্য রানওয়েতে গিয়েও ফিরে আসে তিনটি বিমান।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কাল, শনিবারও ভোরের দিকে কিছুটা কুয়াশা পড়তে পারে। তবে কুয়াশার মাত্রা ওইদিন কমবে। রবিবার থেকে কুয়াশা বিশেষ পড়বে না বলেই আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা।