মধ্যরাত পর্যন্ত আলিমুদ্দিনের নেতাদের চেষ্টা ব্যর্থ, শেষমেশ ভোটাভুটিতেই ঠিক হবে সিপিএম জেলা সম্পাদক
বর্তমান | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শেষ হয়েছে সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলন। কিন্তু এ যেন শেষ হয়েও হইল না শেষ! পলিট ব্যুরো সদস্য থেকে শুরু করে তাবড় সিপিএম নেতারা শত চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি এড়াতে পারলেন না। নবগঠিত জেলা কমিটি এবং জেলা সম্পাদক কে হচ্ছেন, তা জানার জন্য তাই ১৬ ফ্রেব্রুয়ারি, রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর তা হবে সদস্যদের ভোটাভুটির মাধ্যমেই।
শুক্রবার থেকে বারাসতে শুরু হয়েছিল সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলন। রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত চলে সেই কর্মসূচি। দলের অন্যান্য বিধি মেনে সম্মেলনের পর্ব এগলেও মূল দু’টি কাজই অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। বর্তমান জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তীকে সরানোর ব্যাপারে সম্মেলনের শুরু থেকেই সরব হয় দলের একাংশ। কিন্তু তাঁর জায়গায় কাকে আনা হবে, সেই প্রশ্নে কোনও সমাধানে পৌঁছতে পারেননি লালপার্টির নেতাকর্মীরা। সূত্রের খবর, দলের একাংশ চাইছেন পলাশ দাসকে। আর একটি অংশ সোমনাথ ভট্টাচার্যকে জেলা সম্পাদক করতে চাইছে। কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায়দের ‘লবি’ চাইছে তরুণ নেতা সায়নদীপ মিত্রsk ওই দায়িত্ব দিতে। সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন কমিটির প্যানেল পেশ হওয়ার পরই কক্ষ থেকে ২৭ জন জেলা কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য ভোটে দাঁড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি জটিল দেখে মানসবাবু নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন। আলিমুদ্দিনের নেতাদের হস্তক্ষেপে ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন নিজেদের নাম প্রত্যাহার করলেও মধ্যমগ্রামের সনৎ বিশ্বাস ও রাজারহাট-নিউটাউনের সৌমেন চক্রবর্তী নাম প্রত্যাহার করেননি। অগত্যা রবিবার বারাসতে দলের জেলা কার্যালয়ে হবে ভোটাভুটি।
বিদায়ী জেলা কমিটিতে ৭০ জন সদস্য থাকলেও এবার সদস্য সংখ্যা হবে ৭৫। ৭৪ জনের নাম ঠিক হয়েছিল। পরবর্তীতে খড়দহ থেকে একজনকে জেলা কমিটিতে নেওয়া হবে জানিয়ে একটি জায়গা ফাঁকা রাখা হয়। জেলা কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন ‘সাসপেন্ডেড’ তন্ময় ভট্টাচার্য। তবে তিনি বলেছেন, ‘সম্মেলনের সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ। কমিটিতে থাকার জন্য সিপিএম করি না। সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েই আমি সিপিএমে ছিলাম, আছি ও থাকব।’ এঅ আবহে রাজনীতির কারবারিদের সরস কটাক্ষ, ‘উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএমে যত মত, তত জট!’