সোমবার মমতা বলেন, “নিশ্চয়ই নেগলিজেন্স ছিল। তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলব না। হয়তো তাঁরা এখনও পাকাপোক্ত হয়নি। তাঁদের হাতে সবটা ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। তাঁদের সাসপেনশনটা তুলে দেওয়া হল।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি জুনিয়র চিকিৎসকরা।
গত ৮ জানুয়ারি, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেশপুরের প্রসূতি মামনি রুইদাস পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। ৯ জানুয়ারি রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে রিপোর্ট তলব করে নবান্ন। ঘটনা খতিয়ে দেখতে ১৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থদপ্তর। পাশাপাশি তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। গতকাল তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তাতে স্যালাইনের ‘বিষক্রিয়া’ নয়, ‘হিউম্যান এরর’-এর কথা বলা হয়। জানা যায়, ওইদিন অপারেশন থিয়েটারে কোনও RMO বা কোনও সিনিয়র চিকিৎসক ছিলেন না। অ্যানাস্থেশিয়া থেকে শুরু করে ডেলিভারি – সবই করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। আর তাতেই বিপত্তি ঘটেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
তারপরই সাংবাদিক সম্মেলনে মেদিনীপুর মেডিক্যালের সুপার-সহ অভিযুক্ত ১২ চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সাসপেন্ড হওয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে সিআইডি তদন্ত চলবে বলেও জানান তিনি। ওই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানায় অনিচ্ছাকৃত খুন, কাজে গাফিলতি, সরকারি কর্মচারী হয়ে আইন না মেনে কারও ক্ষতি করার মতো একাধিক ধারায় মামলাও রুজু হয়। সোমবার তাঁদের উপর থেকে সাসপেনশন তুলে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।