নিয়োগ দুর্নীতির CBI চার্জশিটে জনৈক 'অভিষেক ব্যানার্জি'র নাম, ঠিক কী লেখা রয়েছে?
আজ তক | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে 'অভিষেক ব্যানার্জি' নামে জনৈক ব্যক্তির নাম রয়েছে। প্রাথমিক নিয়োগ-দুর্নীতি মামলায় চার্জশিটে জনৈক 'অভিষেক ব্যানার্জি'। গোটা ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁর নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি খারাপ করার চক্রান্ত করছে।
চার্জশিটে জনৈক 'অভিষেক ব্যানার্জি'র নাম
প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃতীয় চার্জশিট দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সেই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে 'অভিষেক ব্যানার্জি'র নাম রয়েছে। কিন্তু এই ব্যক্তির পরিচয় সামনে আনেনি সিবিআই। চার্জশিটে লেখা রয়েছে, 'ইতিমধ্যেই যে সব বেআইনি নিয়োগ হয়েছে, তার জন্য অভিষেক ব্যানার্জি ৫০ কোটি টাকা চেয়েছিলেন। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র জানায়, ওই প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই প্রত্যেকে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা করে দিয়েছে। আর টাকা তিনি তুলতে পারবেন না। তখন অভিষেক ব্যানার্জি সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে বলেন, অবিলম্বে ওই প্রার্থীদের নিয়োগ বন্ধ করো নাহলে দূরে কোথাও পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করো।' CBI-এর সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটের ১২ নম্বর পাতায় আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ রায় বর্মন এবং সুরজিৎ চন্দ বেহালায় সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁকে ঘুষের টাকা দিতে। অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষের নির্দেশে তাঁর কর্মী অরবিন্দ রায় বর্মন নিজের মোবাইল ফোনে ওই বৈঠকের অডিও রেকর্ড করেছিলেন এবং পরে সেই অডিও ফাইল নিজের মোবাইল ফোন থেকে ল্যাপটপে নিয়েছিলেন, তদন্তের সময় যা উদ্ধার হয়।
সিবিআই-এর চার্জশিটে 'কালীঘাটের কাকু' সহ তিনজনের নাম
ব্যাঙ্কশাল কোর্টে ২১ ফেব্রুয়ারি সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে যে চার্জশিট জমা পড়েছে, তাতে ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের পাশাপাশি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরুণ হাজরা নামে মোট তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই চার্জশিটে একটি কথোপকথনের অডিওর (অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি bangla.aajtak.in) ভিত্তিতেই উল্লেখ করা হয়েছে 'অভিষেক ব্যানার্জি'র নাম।
সিবিআই-এর বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ অভিষেকের আইনজীবীর
গোটা বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সঞ্জয় বসু বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘সিবিআইয়ের এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ন্যারেটিভ আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মানে ইচ্ছাকৃত ভাবে কালি ছেটানোর নিন্দনীয় প্রচেষ্টা। অন্যদের সঙ্গে জড়িত একটি মামলায় কিছু অসমর্থিত স্টেটমেন্ট জুড়ে দিয়ে তদন্তকারী এজেন্সি নিজেই তার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।'