মুখ্য নির্বাচন কমিশনরাকে চিঠি শুভেন্দুর, মমতার বিরুদ্ধে নালিশ
আজ তক | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
নতুন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে উষ্মাপ্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন,'অমিত শাহের সমবায় দফতরের প্রধান সচিবকে করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনার'। সেই সঙ্গে দেশের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ওই মন্তব্যের জেরে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এই মর্মে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বাংলার ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগ করেছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভুতুড়ে ভোটার ধরতে জেলায় জেলায় কোর কমিটিও গঠন করেছেন। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এ দিন নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে শুভেন্দু দাবি করেছেন,'তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেছেন ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে নির্বাচন কমিশনারের মতো পদে নিজেদের লোককে বসাচ্ছে বিজেপি। ২০২৩ সালের নতুন আইন অনুযায়ী আপনার নিয়োগ হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিয়োগ প্যানেলে থাকেন। নিরপেক্ষ ব্যবস্থায় আপনার নিয়োগ হয়েছে। এর আগে বয়োজ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ পেতেন। সেই নিয়ম অনুযায়ীও এই পদ আপনারই প্রাপ্য ছিল। রাজীব কুমারের পর আপনিই নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সিনিয়র'।
নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরের কর্মিসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,' অমিত শাহের অধীনস্থ সমবায় দফতরের প্রধান সচিব পদে কাজ করেছিলেন। আমি এক সময় কমিশনকে শ্রদ্ধা করতাম। এখনও করি। নির্বাচন কমিশনার পদে কাকে বসিয়েছে জানেন? টোটালটাই বিজেপির লোক'।
শুভেন্দুর বক্তব্য,'কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে আপনার কাজের সময় তুলে ধরেছেন মমতা। তবে এটা উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পেতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সচিব পদে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। সেই বিষয়টিও সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন মমতা। নির্বাচন কমিশন একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। দেশের ভোটপ্রক্রিয়া নিরপেক্ ভাবে পরিচালনা করে। ভারতের সংবিধান কমিশনকে এই অধিকার দিয়েছে'।
শুভেন্দু আরও লিখেছেন,'নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমস্ত সীমা পার করে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভিত্তিহীন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। প্রকাশ্যে মিথ্যে অভিযোগ করে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে'।