যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার (Jadavpur University Chaos) প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যের সব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দিল সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। পাশাপাশি রবিবার বিকেলে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে বামফ্রন্টের তরফে। সুকান্ত সেতু থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত মিছিল হবে বিকেল ৫টায়। মিছিলে থাকবেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। বামেদের সহযোগী দলগুলিও এই মিছিলে থাকতে পারে। মিছিল থেকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গ্রেফতারির দাবি জানানো হবে।
শনিবার দুপুরে ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বামপন্থী ছাত্ররা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu) সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ব্রাত্যর গাড়ির সামনে বসে পড়া থেকে গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। গাড়ির কাচ ভাঙার পাশাপাশি, চাকার হাওয়াও খুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এছাডা়ওছোড়া হয় জুতোও। ব্রাত্যকে হেনস্থা করার অভিযোগও ওঠে। কোনও রকমে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে এসএসেএম হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যান। জানা গিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর কোমরে ও হাতে চোট লাগে। পাশাপাশি, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির নীচে পড়ে গুরুতর আহত হন এক ছাত্র। ইন্দ্রানুজ রায় নামের ওই ছাত্রকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সূত্রের খবর, সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে পড়ুয়ার বাঁ চোখ ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছেন।
এরপর যাদবপুর থানা চত্বরে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি বিক্ষোভ দেখায়, পাল্টা পথে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। রাতের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও রাতের দিকে তৃণমূল সমর্থিত কর্মী সংগঠন শিক্ষাবন্ধু সমিতির কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। কী ভাবে আগুন লেগেছিল তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা গিয়েছে, ওই ঘরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার ছিল। ঠিক সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে না এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত পারত।
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তকালের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচটি FIR দায়ের হয়েছে যাদবপুর থানায়। পাশাপাশি, একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অশান্তি ছড়ানোয় যুক্ত থাকায় বেশ কয়েক জনের খোঁজ চলছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে হামলা চালানো, তাঁকে আটকানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আগুন লাগার ঘটনা নিয়ে দু'টি অভিযোগ করেছে তৃণমূলপন্থী অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপা (WBCUPA)। শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক সদস্যা। অন্য দিকে, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ জানিয়েছেন যাদবপুরের এক পড়ুয়া।