যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। যদিও তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর পথ আটকানো, মন্ত্রীর ঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, স্টাফ কোয়ার্টার ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আহত ইন্দ্রানুজের অবস্থা স্থিতিশীল
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সংঘর্ষ চলাকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ইন্দ্রানুজ রায় ধাতব ড্রাইভওয়েতে পড়ে যান। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রীর গাড়ি তার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, ইন্দ্রানুজের বাঁ চোখের পাশে গভীর চোট লেগেছে এবং সেখানে ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আঘাতটি চোখের বলের উপর না পড়লেও তা যথেষ্ট যন্ত্রণাদায়ক এবং গুরুতর। তার রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দল গঠন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইন্দ্রানুজের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল গঠন করেছে, যেখানে রয়েছেন একজন ক্রিটিকাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ, একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন অর্থোপেডিক এবং একজন সাধারণ চিকিৎসক।
অপর আহত পড়ুয়ার অবস্থা
এই সংঘর্ষে আহত অন্য ছাত্র, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের পিএইচডি গবেষক সুমন্ত প্রামাণিক, রবিবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। তার শরীরে ঘর্ষণজনিত আঘাত ছিল এবং তিনি বমি বমি ভাবের অভিযোগ করেছিলেন, তবে পরীক্ষায় গুরুতর কিছু ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালে আহত পড়ুয়াদের ভিড়
সংঘর্ষের পর প্রায় ২০ জন পড়ুয়া চিকিৎসার জন্য কেপিসি মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র দু’জনকে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এই ঘটনায় ছাত্র ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইন্দ্রানুজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও, তাঁর আহত হওয়া এবং পুলিশের মামলা দায়েরের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।