বাবার কোলে শিশু, একটু দূরেই মা; হালতুতে একই পরিবারের তিনজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
আজ তক | ০৪ মার্চ ২০২৫
ট্যাংরায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই এবার কসবাতে রহস্যমৃত্যু। মঙ্গলবার সকালে কসবার পূর্বপল্লির একটি বাড়ি থেকে তিনজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, এটা আত্মহত্যার ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম সোমনাথ রায়, সুমিত্রা রায় ও রুদ্রনীল রায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সোমনাথ এখানে দীর্ঘদিন ধরেই থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল। তবে শিশুপুত্র রুদ্রনীল অসুস্থ ছিল। সেজন্য তার অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। তবে তাদের যে এই পরিণতি হবে তা টের পাননি প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেখা যায় ঘরের ভিতর গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে সোমনাথ ও সুমিত্রা। সোমনাথের কোলে তাঁর শিশুপুত্র। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহের কাছ থেকে সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। যা দেখে মনে করা হচ্ছে, আত্মহত্যা করেছে ওই দম্পতি। শিশুপুত্রকে খুন করার পরই নিজেদের শেষ করে তাঁরা।
আত্মহত্যা যদি করে থাকে তবে তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পেশায় অটোচালক সোমনাথের আর্থিক সামর্থ্য তেমন ছিল না। বাজারে তাঁর কিছু ধানদেনা হয়েছিল। ছেলের চিকিৎসার জন্য ঋণ করলেও তা শোধ করতে পারেননি।
এও শোনা যাচ্ছে, জায়গা নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন সোমনাথ। মাঝে মধ্যেই তা নিয়ে অশান্তি লেগে থাকত। সেই ঝামেলা থেকে বেরোতে পারছিলেন না। তার জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন দম্পতি। তার জেরেও আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত হতে পারে।
প্রসঙ্গত,গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্যাংরাতে এক বাড়ি থেকে তিনজনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তা আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হলেও পরে পুলিশ জানতে পারে তিনজনতেই খুন করা হয়েছে। সেই ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ওই পরিবারের দুই ভাই তাঁদের স্ত্রীদের খুন করেছে। সেই ঘটনার পর ফের সামনে এল এই ঘটনা।