২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভবানীপুরে রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে উদ্যোগী হলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যালয় খুলতে চলেছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। জানা গেছে, আগামী ১ মে এই কার্যালয় উদ্বোধন করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই বিজেপির ভবানীপুরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
ভবানীপুরে বিজেপির সংগঠন মজবুত করার পরিকল্পনা
শুভেন্দুর কার্যালয় খোলার সিদ্ধান্তকে ঘিরে ভবানীপুরের রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় ১০০ জনের বেশি কর্মী নিয়ে একটি টিম গঠন করা হবে, যারা মূলত তথ্য সংগ্রহের কাজ করবে। তবে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরে বিজেপির উপস্থিতি জোরদার করতেই এই বিশেষ পরিকল্পনা।
নন্দীগ্রামের পর পাখির চোখ ভবানীপুর?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ফের বিধায়ক হন তিনি। একুশের নির্বাচনের পর থেকে ভবানীপুরে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
সম্প্রতি শুভেন্দু মন্তব্য করেছিলেন যে, “নন্দীগ্রামের থেকে ভবানীপুরে জেতা সহজ”। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতে বিজেপি এগিয়ে ছিল—৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে। অন্যদিকে, তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৭৩, ৭৭ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার, যেখানে বিজেপি মাত্র ২৭৯ ভোটে পিছিয়ে ছিল।
শুভেন্দুর পরিকল্পনা ও তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ
বিজেপির কৌশল অনুযায়ী, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে অতিরিক্ত নজর না দিলেও চলবে, কারণ এটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। বিজেপির ধারণা, বাকি ওয়ার্ডগুলিতে ভালোভাবে লড়াই করলে ভবানীপুরে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থী মালা রায় ৮,২৭১ ভোটে এগিয়ে ছিলেন এবং শুধু ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডেই তৃণমূল বিজেপির চেয়ে ১২,৩২৫ ভোট বেশি পেয়েছিল।