• 'শিক্ষামন্ত্রী যে অনুতপ্ত সেটা কাজের ধারা দিয়ে...', বললেন ইন্দ্রানুজের বাবা
    আজ তক | ০৫ মার্চ ২০২৫
  • শিক্ষামন্ত্রী ফোন করেছিলেন তাঁকে। তিনি অনুতপ্ত। তবে সেই অনুতাপবোধ কাজে দেখতে চাইছেন ইন্দ্রানুজ রায়ের বাবা অমিত রায়। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি দুর্ঘটনায় ইন্দ্রানুজ আহত হননি বলে দাবি করেছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের ব্যাখ্যা ছিল, গাড়িতে ধাক্কা খেলে ফ্র্যাকচার থাকার কথা। তবে ইন্দ্রানুজের এক্স-রে রিপোর্টে ফ্র্যাকচারের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানান অমিত। তাঁর কথায়, 'এক্স রে রিপোর্ট পেয়েছি। আমি কোনও রাজনৈতিক তরজাতে যেতে চাই না'।

    ইন্দ্রানুজ ও তাঁর বন্ধুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অমিত রায়। সেই মামলা প্রত্যাহার করার কথা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে জানিয়েছেন তিনি। অমিত রায় বলেন,'আমি যেটা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত বলে মনে করি, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন তিনি অনুতপ্ত। তবে সেটা তাঁর কাজের ধারার মধ্যে দিয়ে বুঝতে পারব। তার অংশ মিথ্যা মামলাগুলি প্রত্যাহার করা। উনি ভেবে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। ওই ঘটনায় ইন্দ্রানুজ ছিল না। সে সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিল ও। ইন্দ্রানুজ ও তাঁর বন্ধুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দমন-পীড়নের এই নিম্নমানের রাজনীতির নিন্দা করছি'। 

    শিক্ষামন্ত্রীর উপর কি ভরসা রাখছেন? ইন্দ্রানুজের বাবা জানান,'শিক্ষামন্ত্রী কী করবেন, কী করবেন না, সেটা জানি না। আমি ইতিবাচক ভাবব। যদি দেখা যায়, জিনিসগুলিকে সঠিকভাবে করা হচ্ছে। ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলে বোঝা যাবে উনি সত্যিকারের অনুতপ্ত। সিনিয়ররা যেন উত্তেজনা তৈরি না করেন। আলাপ আলোচনা করে গণতান্ত্রিকভাবে সমাধান করুন। ছাত্রছাত্রীরা আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। তারা আমাদের সন্তান'।

    ছেলের দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না-পসন্দ অমিত রায়ের। তিনি বলেন,'ফ্র্যাকচার আছে। চিকিৎসকরা চিকিৎসা শুরু করেছেন। এটা নিয়ে এত রাজনীতি করার কী আছে? আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। এটা আমাদের বিরাট পাওনা। যারা বলছেন, তারা কি চাইছেন যে গাড়ি চাপা পড়ে মারা গেলে ভালো হত!এই ধরনের বিতর্ক করা ঠিক নয়'। 

    ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনা দরকার বলে মনে করেন অমিত রায়। তাঁর অভিমত,'এই প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের ভয় দেখিয়ে দমন করার চেষ্টা করা হলে তারা দমবে না। তারা বরং আরও উত্তেজিত হয়ে পড়বে। আমাদের উচিত, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা। বড়দের আরও অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের আরও ধৈর্যশীল হতে হবে'। 

    যাদবপুরে অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও তিনি দেখা করতে যাবেন বলে জানান অমিত। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তাঁর বার্তা,'শিক্ষামন্ত্রী দ্রুত ক্যাম্পাসে আসুন। ক্যাম্পাসে এসে সমস্যার সমাধান করুন। তারা না খেয়ে বসে আছে, আমরা যে যার মতো থাকব, এটা সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়'।   
  • Link to this news (আজ তক)