দেবব্রত ঘোষ: প্রতিবছরের মতো এবারও দোলের পর যাত্রাপালার আসর বসেছিল বালি ঠাকুরানীচক হরিসভা তলায়। যাত্রাপালার নাম মৃত্যু বাসরে ফুলশয্যা। টানটান উত্তেজনার পর শেষ লগ্নে যখন যাত্রাপালা তখনই ঘটে গেল মর্মান্তিক এক ঘটনা। মাঠ ভর্তি দর্শকের চোখের সামনে যাত্রার মঞ্চেই আচমকা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মিলন গায়েন(৫৫) নামে এক অভিনেতা।
মিলন গায়েনই ছিলেন যাত্রাপালার পরিচালক। চিত্রনাট্য ছিল এরকমই-দুই ভাই জীবন গাঙ্গুলী ও চন্দন গাঙ্গুলী তাদের একমাত্র বোন সীতার বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু পণ আদায়ের জন্য বোনের ওপর অত্যাচার করছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। ছোট ভাই চন্দন ছদ্মবেশে বোনের অত্যাচারের বদলা নিতে খুন করে একজনকে। অন্যদিকে বড় দাদা জীবন গাঙ্গুলী পণের টাকা জোগাড় করতে না পেরে বোনকে খুন করে। সেই সময় পুলিস তাকে ধরতে আসে। কিন্তু ছোট ভাই এসে বলে সব খুন সে নিজে করেছে। দাদা নিরাপরাধ।
দাদাকে ছেড়ে দিয়ে ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিস। কিন্তু ছাড় পেয়েও বাস্তবে মুক্তি পেলেন না জীবন গাঙ্গুলী। অসুস্থতার কারণে মঞ্চেই ঢলে পড়েন তিনি। পরিবারের লোকেরা জানান জীবনের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন মিলন গায়েন। যাত্রায় তার শেষ ডায়লগ ছিল দোষী হয়েও আমি নির্দোষ হয়ে গেলাম! কিন্তু সেই ডায়লগ আর বলা হল না।