শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘিরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলকালাম কাণ্ডের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত। তিনি দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি। অবশেষে ১৭ দিনের মাথায় সোমবার কাজে যোগ দিলেন। তবে খুব কম সময়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন তিনি।
এদিন সকাল ১০টা ৫০ মিনিট নাগাদ এসেই জরুরি বৈঠক করেন উপাচার্য। প্রথমে তিনি সহ উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিক তথা রেজিস্ট্রার ও অন্যান্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক করেন পরীক্ষা কমিটির সঙ্গেও। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের আন্দোলন ও অশান্তির জেরে গত কয়েকদিনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে যেসব পরীক্ষাগুলি হয়নি, সেসব পরীক্ষাগুলি কবে কীভাবে গ্রহণ করা যাবে সেবিষয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে কর্ম সমিতির বৈঠক প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেছেন, অস্থায়ী উপাচার্য পদে থেকে কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার জন্য সরকারি অনুমতির প্রয়োজন। সেই সঙ্গে গত কয়েক দিনের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কর্মসমিতিতে আলোচনাও প্রয়োজন। সেজন্য তাঁরা শীঘ্রই সরকারের কাছে বৈঠক নিয়ে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
উপাচার্য আরও জানিয়েছেন, তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনই বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। সেজন্য সরকারের কাছে এ বিষয়ে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি বসানো প্রসঙ্গে উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত জানান, তাঁদের কাছে পুলিশ ফাঁড়ি ও ব্যারাক তৈরির প্রস্তাব এসেছে। সব মিলিয়ে ৪০০০ বর্গফুট জায়গা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এই মুহূর্তে এতটা জমি নেই। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম সমিতির বৈঠকে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত গত ১ মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার সম্মেলন ছিল। সেখানে হাজির হন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সেই সম্মেলনে এসএফআই সহ অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষামন্ত্রীর ব্রাত্য বসুর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় জখম হন বেশ কয়েকজন পড়ুয়া। আহত ছাত্রদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁদের দেখতে যান উপাচার্য। কিন্তু বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই বিক্ষোভের মধ্যে উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ তিনি ছুটিতে ছিলেন। আপাতত সোমবার কাজে যোগ দিলেও তিনি শারীরিকভাবে এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। সেজন্য চিকিৎসকরা উপাচার্যকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। কারণ কোনও প্রকার উত্তেজনা বা মানসিক চাপে ফের তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। এজন্য সকালে ডাক্তারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন উপাচার্যের স্ত্রী। এর পরেই চিকিৎসকদের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি অল্প সময়ের জন্য ক্যাম্পাসে আসার ছাড়পত্র পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন স্বাভাবিকভাবে চললেও এখনও তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রের শাস্তির দাবিতে অনড় পড়ুয়ারা। প্রতিবাদে কলা বিভাগের পড়ুয়ারা রোদকে উপেক্ষা করে সুবর্ণ জয়ন্তী ভবনের বাইরে মাটিতে বসে ক্লাস করছেন। তবে এত সব বিশৃঙ্খলার মধ্যেও আন্তর্জাতিক স্তরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান অটুট রয়েছে। সম্প্রতি কিউএস প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান গত বছরের তুলনায় আরও শীর্ষে পৌঁছেছে। গত বছর আন্তর্জাতিক স্তরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ৭৪১-৭৫০র মধ্যে থাকলেও এবার সেটা ৭২১ থেকে ৭৩০-এর মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত। তাঁর কথায়, ‘এত কিছুর মধ্যেও যাদবপুর তার মান ধরে রাখতে পেরেছে, এটা গর্বের বিষয়।’