• শোভনদেবের সঙ্গে বৈঠক, দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি হুমায়ুনের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৮ মার্চ ২০২৫
  • দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে ক্ষমা চেয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পেলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দলের তরফে তাঁকে শোকজ করা হয়েছিল। একদিনের মধ্যেই শোকজের চিঠির উত্তর দেন তিনি। তবে হুমায়ুনের জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। মঙ্গলবার কমিটির তরফে হুমায়ুনকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেই মতো এদিন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন হুমায়ুন।

    তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট বৈঠক করেন হুয়ায়ুন কবীর। বৈঠক শেষে হুমায়ুন জানান, তিনি দলের শৃঙ্খলা, দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবেন। এর আগে গত নভেম্বরেও বিতর্কিত মন্তব্য করার পর শোকজের চিঠি পাওয়ার পর একথা বলেছিলেন হুমায়ুন। ফলে তৃণমূল বিধায়কের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দিহান দলের একাংশ।

    শোভনদেব বলেন, আমি ওঁকে বুঝিয়েছি, শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। এটা নেত্রীর নির্দেশ। আমাকেও সেই শৃঙ্খলা মানতে হবে, ওঁকে মানতে হবে, সবাইকেই মানতে হবে। এর বাইরে কিছু করা যাবে না। ওঁকে বোঝানোর পর উনি বুঝেছেন। কথা দিয়েছেন, এমন কিছু বলবেন না, যাতে দলের অস্বস্তি হয়। তোমার মনে ক্ষোভ, দুঃখ থাকতেই পারে। কিন্তু এমন কিছু বলতে পারো না, যেটা সংবিধান সম্মত নয়। তোমার কিছু বক্তব্য থাকলে, তা বলার জায়গা অন্য।

    হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে আমি খুশি। শোভনদেববাবু যে ভাবে আমায় বুঝিয়ে বলেছেন, তা আমার ভাল লেগেছে। আমি বলেছি, আমি দলের বিধায়ক হিসাবে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলব, নেত্রীর নির্দেশ মেনে চলব। বিধায়ক হিসেবে আমি দলীয় শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে নই। আমিও ওনাদের কাছে কিছু আবেদন রেখেছি। ওনারা আমাদের কথা দিয়েছেন, আমার কথাটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।’

    শোভনদেব ছাড়াও মঙ্গলবারের বৈঠকে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বৈঠকে হুমায়ুনকে সতর্ক করা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হয়, এমন কোনও কথা বলা যাবে না। কোনও অভিযোগ থাকলে নির্দিষ্ট জায়গায় জানাতে হবে। শোভনদেবের সঙ্গে ওই বৈঠকের পরেই বিধানসভার অলিন্দে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুনের সঙ্গে দেখা হয় আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির। সেই সাক্ষাৎ নিয়ে হুমায়ুন বলেন, এটাই সৌজন্য। বিধানসভা ভবনের অভ্যন্তরে আমরা সবাই এক। আমরা বিধায়ক।

    শুভেন্দু অধিকারীর ধর্ম নিয়ে মন্তব্যের পর একা হুমায়ুন কবীর নয়, আরও অনেকে মুখ খুলেছিলেন। তাঁদের সম্বন্ধে পরিষদীয় মন্ত্রী বলেন, যাঁরা যাঁরা মন্তব্য করেছিলেন, সকলকেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করেছেন। আলাদা করে কিছু বলার নেই। তবে সকলকেই বলব, দলীয় অনুশাসন মেনে চলুন।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিধানসভার সামনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সংখ্যালঘু বিধায়কদের চ্যাংদোলা করে বের দেওয়া হবে। এই মন্তব্য ঘিরে তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়। এর প্রত্যুত্তরে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই কথা প্রত্যাহার না করলে ৪২ জন বিধায়ক আপনার ঘরের বাইরে আপনাকে বুঝে নেবে। আমার জাতিকে অপমান করা হলে, আমি ছেড়ে দেব না। আমাকে মারতে এলে রসগোল্লা খাওয়াব নাকি? ঠুসে দেব। ক্ষমতা থাকলে মুর্শিদাবাদে আসুন, দেখে নেব। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই হুমায়ুনকে শোকজ করে তৃণমূল।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)