‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই’ স্লোগান তুলেছিল বঙ্গ বিজেপি। এবার গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করে পাল্টা পোস্টার দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের আইটি সেলের তরফে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার/ব্যানার লাগানো হল। বিধাননগরের একাধিক জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি ও সোশাল মিডিয়ার শাখার পক্ষ থেকে একাধিক পোস্টার মঙ্গলবার দেখা গিয়েছে। বিকাশ ভবনের উল্টোদিকে এবং করুণাময়ী মোড়ে এই পোস্টার দেখা যায়। উত্তর ও মধ্য কলকাতার একাধিক জায়গাতেও এই পোস্টার, ব্যানার, হোর্ডিং দেখা গিয়েছে।
পোস্টারে লেখাতেও বৈচিত্র রয়েছে। বিজেপি হিন্দুত্ববাদকে আক্রমণের পাশাপাশি কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকেও একহাত নেওয়া হয়েছে পোস্টারে। বিজেপির টাঙানো ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই’ পোস্টারের পাল্টা লেখা হয়েছে, ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই, বাঙালি পূর্ণ মন্ত্রী নাই’, ‘হিন্দু যদি ভাই ভাই, গ্যাসে কেন ছাড় নাই?’, ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই, তবু তেলের দামে লোটা চাই?’, ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই, আধার লিঙ্কে ফাইল খাই!’। আর এই সমস্ত পোস্টারের নীচে লেখা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস আইটি ও সোশাল মিডিয়া শাখা।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, সাধারণ মানুষ আজকে পাল্টা যেটা মনে করছেন, হিন্দু সাধারণ ভাই বোন যাঁকে দাবি করছেন ওঁরা, সেই তাঁদেরই গ্যাস কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। গ্যাসের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক করানোর নামে হাজার টাকা করে ফাইন নিচ্ছেন। একজনও পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে কোনও বাঙালি কেন্দ্রীয় সরকারে নেই। অথচ বাংলা অন্যান্য অনেক বিজেপি শাসিত রাজ্যের থেকে বেশি সংখ্যক সাংসদ দিয়েছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন গুলো সাধারণ হিন্দুদের তরফে উঠে আসছে।
সোশাল মিডিয়ায় পোস্টারের ছবি দিয়ে দেবাংশু লিখেছেন, ‘ভাই’ বলে ডেকে পিঠে ছুড়ি মারার নাম বিজেপি। বিজেপি বা নরেন্দ্র মোদীর কাছে ‘ভাই’ কখনোই হিন্দুরা নয়। নরেন্দ্র মোদীর ভাই হলেন নীরব মোদী, মেহুল চোক্সি কিংবা ললিতরা। তাদের ভাই বলে ডেকে দেশের টাকা লুটে বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা হয়। আর বিজ্ঞাপনে বিজেপি যাদের ভাই বলে, তাদের কপালে জোটে দামি গ্যাস, আধার-গ্যাস লিঙ্ক করার নাম করে হাজার টাকার ফাইন কিংবা বেলাগাম মূল্যবৃদ্ধি!
অন্যদিকে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ পোস্টার ইস্যুতে তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন। তিনি বলেন, বাঙালি পূর্ণমন্ত্রী নেই বলছে ওরা, ওরা যখন ছিল, কটা মন্ত্রী ছিল? নাটক করেছেন, রিজাইন দেওয়া, চলে আসা, রাতারাতি মন্ত্রী পাল্টে দেওয়া, বাঙালির যে ইমেজ খারাপ করেছেন, বাঙালির ওপর কেউ বিশ্বাস করছেন এখন? হবে পূর্ণমন্ত্রী, এটা ওদের চিন্তা করার দরকার নেই, আমরা বুঝে নেব।