১০ লক্ষের বেশি রোগী পরিষেবা, সেবাশ্রয়ের মেগা ক্যাম্প পরিদর্শনে অভিষেক
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৮ মার্চ ২০২৫
বিধানসভা ভিত্তিক ‘সেবাশ্রয়’ শিবির শেষে এবার পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক ডায়মন্ড হারবার লোকসভা জুড়ে চলছে সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মযজ্ঞের ‘মেগা শিবির’। ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই মেগা শিবির সাতটি বিধানসভা জুড়ে চলবে ২০ মার্চ পর্যন্ত। প্রত্যেক বিধানসভায় সেবাশ্রয় চলাকালীন সশরীরে উপস্থিত হয়ে তার কার্য তদারকি করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।
সোমবার দুপুরে ডায়মন্ড হারবার এবং ফলতা বিধানসভার সেবাশ্রয় মেগা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন অভিষেক। চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের পৃথক কক্ষে প্রবেশ করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন সাংসদ। পাশাপাশি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে শিবিরে আগত রোগীদের স্বাস্থ্যের খোঁজও নেন তিনি। এদিনের পরিদর্শন-পর্বে অভিষেকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর খান এবং সাংসদের সহকর্মী সুমিত রায়। ইতিমধ্যেই সেবাশ্রয় থেকে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন ১০ লক্ষের বেশি রোগী। মেগা ক্যাম্প সূচনার দিনেই সেবাশ্রয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৩৫ হাজারের অধিক মানুষ।
উল্লেখ্য, রক্তচাপ, সুগার থেকে নানা বিরল রোগের চিকিৎসাও হচ্ছে সেবাশ্রয়ে। তবে দৃষ্টিহীনেদের পৃথিবীর আলো দেখাতে যে ভূমিকা পালন করেছেন অভিষেক, তা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত। বিনামূল্যে অগণিত মানুষের সফল ছানির অস্ত্রোপচার তো বটেই, সেই সঙ্গে যাদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই তাঁদের চোখে তুলে দিয়েছেন বিশেষ চশমা। রবিবার ৪৩০ জনকে বিনামূল্যে নির্দিষ্ট চক্ষু পরীক্ষার ভিত্তিতে চশমা প্রদান করা হয়েছে সেবাশ্রয়ের তরফ থেকে। এই তথ্য সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে অভিষেক লিখেছেন, ‘প্রায় ৪০% মানুষ, যাদের চশমার প্রয়োজন কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে চশমা ব্যবহার করতে পারেন না! আমরা এই সমস্যা সমাধানের প্রয়াস করেছি।’
তাঁর সংযোজন, ‘দৃষ্টিশক্তি শুধুমাত্র দেখার ক্ষমতা নয়। এটি মর্যাদা, ক্ষমতায়ন এবং নিশ্চিত করা যে কোনও স্বপ্ন শুধুমাত্র প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই অস্পষ্ট থেকে যাবে না।’ এখানেই শেষ নয়, পরীক্ষার মাধ্যমে সেবাশ্রয় থেকে উন্নত মানের শ্রবণযন্ত্রও দেওয়া হবে ৫০ জনকে। সেবাশ্রয়ের এই মহৎ উদ্যোগ দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে নেক্সট হিয়ারিং অডিওলজি, যাতে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ‘স্টার কি’ থেকে উন্নত, উপযোগী ও কাস্টমাইজড শ্রবণযন্ত্র নিয়ে তা দরিদ্র মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সাংসদের তৎপরতায়।